ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের কান্না

জেলা প্রতিনিধি,গাজীপুর | মে ২১, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক  শ্রমিকদের কান্না

সামনে পবিত্র ঈদ। যখন সবার ঘরে ঘরে চলছে আনন্দের প্রস্তুতি, ঠিক তখনই গাজীপুরের শ্রীপুরের শত শত পোশাক শ্রমিকের চোখে শুধুই অন্ধকার। ঈদের আনন্দ তো দূরের কথা, দু’মুঠো ভাতের জোগাড় করাই এখন তাদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রীপুর উপজেলার ২ নং গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর এলাকায় অবস্থিত ‍‍`ওয়াসিন‍‍` কারখানার শ্রমিকদের মাঝে এখন কেবলই কান্নার রোল।

জানা গেছে, গত দুই মাস ধরে ওয়াসিন কারখানার শ্রমিকদের কোনো বেতন দেওয়া হচ্ছে না। বকেয়া বেতন না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কারখানার শত শত শ্রমিক। ঘরভাড়া দিতে না পারায় বাড়িওয়ালার লাঞ্ছনা, আর মুদি দোকানের বাকি পরিশোধ করতে না পেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা বন্ধ হয়ে গেছে তাদের। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহার আর অর্ধাহারে দিন কাটছে এই মানুষগুলোর, যাদের অক্লান্ত ঘামে সচল থাকে কারখানার চাকা।

কারখানার এক নারী শ্রমিক চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন,
আমাদের ঘরে ঈদ নাই, আনন্দ নাই। পোলাপানরে নিয়া দুই বেলা খামু সেই উপায়ও নাই। আমরা কোনো বোনাস বা বাড়তি কিছু চাইতাছি না, আমাদের কষ্টের ঘামের পাওনা টাকাটা চাইতাছি। বকেয়া টাকা না পাইলে আমরা যামু কই?

বকেয়া পাওনাটুকু চাওয়া কি অপরাধ?এই প্রশ্ন এখন শ্রীপুরের বাতাসে ভাসছে। আজ সকাল থেকে যখন ক্ষুধার্ত ও ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা নিজেদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে কারখানার সামনে আন্দোলনে নামেন, তখন কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সান্ত্বনা বা আশ্বাস তো মেলেইনি, উল্টো মিলেছে নির্মম আচরণ।

শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে, জোর করে কাজে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এমনকি আন্দোলন দমাতে বুক কাঁপানো প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে,এখন কথা না শুনলে, ঈদের পর চাকরি থাকবে না!

বিগত দুই মাসের বেতন বকেয়া, বেতন পরিশোধে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস নেই।
ঘরভাড়া ও মুদি দোকানের বকেয়া নিয়ে চরম মানসিক চাপ,ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক কাজে ফেরানোর চেষ্টা।
পরিবার নিয়ে অনাহার-অর্ধাহারে দিনযাপন, আন্দোলন করলে ঈদের পর চাকরিচ্যুতির হুমকি।
হুমকিতেও অনড় শ্রমিকেরা
একদিকে চাকরি হারানোর ভয়, অন্যদিকে পেটের ক্ষুধা ও পরিবারের অসহায় মুখ—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন শ্রমিকেরা। তবে পেটের ক্ষুধার কাছে চাকরি হারানোর ভয়ও যেন এখন তুচ্ছ। কারখানা কর্তৃপক্ষের নির্মম হুমকি উপেক্ষা করেই চোখের জল মুছতে মুছতে বকেয়া আদায়ের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা।

দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এই শ্রমিকদের ওপর কারখানা কর্তৃপক্ষের এমন নির্মম আচরণের শেষ কোথায়? তারা কি ঈদের আগে তাদের ঘামের সঠিক মূল্য পাবেন, নাকি বকেয়া বেতন ছাড়াই কাটাতে হবে কষ্টের এক ঈদ?এখন এটাই দেখার বিষয়, এই বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!