ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

স্বর্গের পাখি ‘বার্ডস অফ প্যারাডাইস’ ফুল

এস আর এ হান্নান, মহম্মদপুর (মাগুরা) | মে ২১, ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম স্বর্গের পাখি ‘বার্ডস অফ প্যারাডাইস’ ফুল

প্রথম দেখায় গাছটিকে সাধারণ কোনো বুনো কলাগাছ বলেই মনে হতে পারে। তবে একটু ভালো করে তাকালেই চোখ আটকে যাবে বিস্ময়ে। সবুজ পাতার ফাঁক গলে নিচের দিকে ঝুলে আছে এক অপূর্ব সুন্দর ফুল, যা দেখতে যেন রঙিন ডানা মেলা একঝাঁক পাখি। পাখির পালকের মতো বর্ণিল পাপড়ি আর রাজকীয় গড়নের কারণে বিশ্বজুড়ে এই ফুল পরিচিত ‘বার্ডস অব প্যারাডাইস’ বা ‘স্বর্গের পাখি’ নামে। রঙ, রূপ ও জ্যামিতিক বৈচিত্র্যের অনন্য সমন্বয়ে এটি যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা জীবন্ত ক্যালিগ্রাফি।

বিশ্বের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও দুর্লভ ফুলগুলোর মধ্যে অন্যতম এই ‘বার্ডস অব প্যারাডাইস’। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ প্রদেশকে এর আদি নিবাস ধরা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। বর্তমানে বাংলাদেশের মাটিতেও এই রাজকীয় ফুল ধীরে ধীরে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে প্রকৃতিপ্রেমীদের।

সম্প্রতি মাগুরার মহম্মদপুরের ধোয়াইল গ্রামের বাসিন্দা এবং উপজেলা সদরে অবস্থিত কাজী সালিমা হক মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম ইউনুস আলীর বাড়ির আঙিনায় ফুটেছে এই বিরল ফুল। নিজের বাড়িতে এমন ব্যতিক্রমী সৌন্দর্যের উপস্থিতিতে উচ্ছ্বসিত তিনি।

এস এম ইউনুস আলী জানান, “প্রায় তিন বছর আগে আমার ভাগ্নে মো. শহিদুর রহমান একটি চারা এনে দিয়েছিল। শখ করে বাড়ির আঙিনায় লাগিয়েছিলাম। এবার গাছটিতে অনেক বেশি ফুল ফুটেছে। ফুল যে এতটা দৃষ্টিনন্দন হতে পারে, এটি না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।”

জানা গেছে, মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ফুল ফোটার উপযুক্ত সময়। রোদ ও ছায়া উভয় পরিবেশেই গাছটি টিকে থাকতে পারলেও উজ্জ্বল রোদে এর ফুল সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। একবার ফুল ফোটার পর প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত এর সতেজ সৌন্দর্য অটুট থাকে। হলুদ, সোনালি কমলা, গাঢ় নীল, লাল ও শুভ্র সাদার মিশেলে এর পাপড়িগুলো যেন রঙের এক অপূর্ব উৎসব।

শুধু সৌন্দর্যের কারণেই নয়, বিশ্বজুড়ে ‘বার্ডস অব প্যারাডাইস’ আভিজাত্য, স্বাধীনতা, নেতৃত্ব ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবেও পরিচিত। দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে নবম বিবাহবার্ষিকীতে এই ফুল উপহার দেয়ার ঐতিহ্য রয়েছে। এর বর্ণিল ও ত্রিমাত্রিক গঠনের কারণে বহু চিত্রশিল্পীর ক্যানভাসেও এটি অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

ফুলটির মতো গাছটিও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সাধারণত ৬ থেকে ১০ ফুট উচ্চতার ঝোপালো আকৃতির এই গাছের পাতাগুলো দেখতে অনেকটা কলাপাতার মতো। কোনো কোনো জাতের পাতার মাঝ বরাবর লালচে রেখাও দেখা যায়। বিশ্বজুড়ে ল্যান্ডস্কেপিং ও গৃহসজ্জার উপাদান হিসেবে এর জনপ্রিয়তা ব্যাপক। আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলোতে বাড়ির আঙিনা, আলিশান পার্ক, হাইওয়ের আইল্যান্ড কিংবা বহুজাতিক অফিসের লবিতে এই গাছ আভিজাত্যের স্মারক হিসেবে শোভা পায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের ‘অফিসিয়াল ফুল’ হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে এই ‘বার্ডস অব প্যারাডাইস’।

মহম্মদপুরের ধোয়াইল গ্রামের একটি বাড়ির আঙিনায় এই ফুলের প্রস্ফুটন যেন প্রমাণ করে, যত্ন পেলে বাংলাদেশের মাটিতেও বিশ্বসেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিকাশ সম্ভব। মফস্বলের এই সবুজ প্রান্তরে ‘বার্ডস অব প্যারাডাইস’-এর বিকশিত রূপ এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!