ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফরিদপুরে রেলওয়ের জায়গা দখল,পাকা স্থাপনা

জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর | মে ২১, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম ফরিদপুরে রেলওয়ের জায়গা দখল,পাকা   স্থাপনা

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা রেলস্টেশন সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা ও দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে দেলোয়ার মাতুব্বর, তার পুত্র মহসিন উদ্দিন ও কন্যা সাদিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাশয় হিসেবে লীজ নেওয়া রেলওয়ের ভূমি ভরাট করে সেখানে শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তির আওতাধীন ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার তালমা মৌজার জে এল নং-১৩৬ এর দাগ নং ৫৫৮, ৫৫৯, ৫৬০ ও ৫৬১ এর মোট ০.৯৫ একর জলাশয় শ্রেণির জমি বিভিন্ন সময় লীজ গ্রহণ করেন দেলোয়ার মাতুব্বর, তার ছেলে মহসিন উদ্দিন ও মেয়ে সাদিয়া আক্তার।

অভিযোগ রয়েছে, একই পরিবারের সদস্যদের নামে পৃথক পৃথক লাইসেন্স ও রশিদ সংগ্রহ করে সরকারি জায়গা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছে।

রশিদ সূত্রে জানা যায়, মহসিন উদ্দিনের নামে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল এসেট ডিপার্টমেন্ট, পাকশী কর্তৃক ইস্যুকৃত লাইসেন্স নং ৫৪.০১৮১০০.১৩৪.০০৫২.১৯(ফরিদপুর)/৩৫৬ এর বিপরীতে ০.৯৫ একর জলাশয়ের জন্য ১৫ হাজার ৬৭৭ টাকা ভ্যাটসহ জমা দেওয়া হয়। রশিদে চৌহদ্দি হিসেবে উত্তরে রেল সীমানা, দক্ষিণে রেলওয়ের গুমটি ঘর, পূর্বে রাস্তা এবং পশ্চিমে দেলোয়ার মাতুব্বরের জমি উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া একই দাগের অংশে আরও একাধিক রশিদ ও লাইসেন্সের তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে একই পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন সময় অর্থ জমা নেওয়ার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে মহসিন উদ্দিনের নামে ২২ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৩৫ হাজার ৩৪০ টাকার পৃথক রশিদও পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে দেলোয়ার মাতুব্বরের বিবাহিত কন্যা সাদিয়া আক্তারের নামেও বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজবাড়ী ১৫ নং কাচারি অফিস থেকে একটি রশিদ ইস্যুর তথ্য মিলেছে। তবে ওই রশিদে লাইসেন্স নম্বর, দাগ নম্বর কিংবা জমির শ্রেণি উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাশয় হিসেবে লীজ নেওয়া জমি ভরাট করে সেখানে দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, যা সরকারি সম্পত্তির অপব্যবহারের শামিল। এতে রেলওয়ের ভূমির মূল শ্রেণি পরিবর্তন হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারেও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে দেলোয়ার মাতুব্বরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার সব কাগজপত্র বৈধ আছে।” পরে তিনি কয়েকটি কাগজপত্র দেখান, যেখানে ছেলে মহসিন উদ্দিন ও মেয়ে সাদিয়া আক্তারের নামেও রেলওয়ে পাকশী, রাজবাড়ী ও রাজশাহী অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিলমোহর দেখা যায়। তবে এসব কাগজপত্রের বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, " তালমা রেলস্টেশনের পাশে রেলওয়ের সরকারি জায়গা দখল করে পাকা স্হাপনা দোকান ঘর নির্মাণ করছে দেলোয়ার মাতুব্বর নামে এক ব্যাক্তি।জলাশয় ভরাট করে করছে জমির শ্রেনী পরিবর্তন। এবিষয় রেলওয়ে কতৃপক্ষের ব্যবস্হা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশীর বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম মুঠো ফোনে বলেন, " দখল করে পাকা স্হাপনা নির্মাণ করার বিষয় আমি অবগত নই।রেলওয়ের ভূ- সম্পত্তি দখল করার সুযোগ নেই।এবিষয় তদন্ত করে ব্যবস্হা নেওয়া হবে"। এছাড়া অন্যান্য কর্মকর্তা

ছানাউল্লাহ, রাজবাড়ী ১৫ নং কাচারির ফিল্ড কানুনগো মোঃ রুহুল আমিন, পাকশীর উচ্চমান সহকারী তাপসী সুলতানা ও অফিস সহকারী জাবের আলীর  সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও  তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!