কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে খালার বাড়ী থেকে সিএনজি অটোরিকশা করে ফেনীর বাসায় যাওয়ার পথে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৪ বছরের এক স্কুল শিক্ষার্থী।
সোমবার ( ১৫ জুন )রাতে উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের তেতৈয়া গ্রামের জাফরের টিনশেড বাড়ীতে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে মেয়ের মায়ের ফোন পেয়ে বুধবার ( ১৬ জুন ) বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ২ জনকে আটক করে।
আটককৃতরা হলেন, উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের অষ্টগ্রাম মোল্লা বাড়ীর জয়নাল আহম্মদের ছেলে সিএনজি চালক রিয়াজ মোল্লা (২৬) ও একই গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ফয়েজ আহমেদ (২৬)। ভিকটিম স্কুল শিক্ষার্থী সাতবাড়িয়া স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এঘটনায় স্কুল শিক্ষার্থীর মা বাদি হয়ে তিনজনকে আসামি করে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে ভিকটিম স্কুল শিক্ষার্থী উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের শুভপুর গ্রামের তার খালার বাড়ি থেকে ফেনীর বাসার উদ্দেশ্যে সিএনজি অটোরিকশা করে রওনা দেন। একপর্যায়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশাটি একই ইউনিয়নের বোড়রা গ্রামে পৌঁছলে সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক তার অটোরিকশাটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা বলে ভিকটিম স্কুল শিক্ষার্থীকে অন্য একটি সিএনজি চালক মামলার আসামী রিয়াজ মোল্লার সিএনজিতে উঠিয়ে দেয়।
পরে সিএনজি চালক রিয়াজ মোল্লা একটু সামনে জাকিরের মোড় নামকস্থানে গিয়ে তার বন্ধু পরিচয়ে মামলার অপর আসামি ফয়েজ আহমেদকে সিএনজিতে উঠায়। এক পর্যায়ে তারা ভিকটিম স্কুল শিক্ষার্থীকে ফেণীর বাসায় পৌঁছে দেয়ার কথা বলে চৌদ্দগ্রামের পদুয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরায়। পরে একইদিন রাত ৮টায় আসামি রিয়াজ মোল্লা ও ফয়েজ আহম্মদ স্কুল শিক্ষার্থী ভিকটিমকে তেতৈয়া গ্রামের জাফরের টিনশেড বাড়ীতে নিয়ে যায়। পরে ফয়েজ আহমদ, রিয়াজ মোল্লা এবং তাদের অপর সহযোগী আকরাম এই তিন জন রাতভর স্কুল শিক্ষার্থী ভিকটিমকে গণধর্ষণ করে।
পরেরদিন মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে এলাকাবাসী খবর পেয়ে ভিকটিম স্কুল শিক্ষার্থীর জবানবন্দির ভিত্তিতে তাকে ফেনীর বাসার উদ্দেশ্য পাঠিয়ে দেয়। পরে স্কুল শিক্ষার্থী ফেনীর বাসায় ঘটনাটি তার মাকে জানালে কিশোরীর মাসহ ঘটনাস্থালে এসে পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে মামলার আসামী রিয়াজ মোল্লা ও ফয়েজ আহম্মদকে আটক করে। নাঙ্গলকোট থানার (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, এঘটনায় ভিকটিমের মা একটি ধর্ষণ মামলা করেছে। অভিযান চালিয়ে দুই জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮জুন) কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হবে।
কালের সমাজ/কে.পি

