ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩

নিত্যপণ্যে উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি রেস্তোরাঁ মালিকদের

বিশেষ প্রতিনিধি | জুন ১৯, ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম নিত্যপণ্যে উৎসে কর প্রত্যাহারের  দাবি রেস্তোরাঁ মালিকদের
সংগৃহীত ছবি

রেস্তোরাঁ শিল্পকে সংকট থেকে উত্তরণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবার ক্ষেত্রে অভিন্ন শুল্ক ও করহার নির্ধারণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। 

 শুক্রবার সকালে পুরানা পল্টনের বিজয়নগরে সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এ সময় রেস্তোরাঁ খাতের জন্য কর ও ভ্যাট কাঠামো সংস্কারসহ সাতটি দাবি তুলে ধরেন, সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান।  লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক খাতের সংকটের মধ্যেও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

তবে এলপিজি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রেস্তোরাঁ খাত গভীর সংকটে পড়েছে। তিনি বলেন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবার ক্ষেত্রে বর্তমানে ভ্যাট হার ভিন্ন হওয়ায় বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সব ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ একক ভ্যাট ও করহার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হচ্ছে। ইমরান হাসান আরও বলেন, স্ট্রিট ফুডসহ সব ধরনের রেস্তোরাঁকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনলে অসম প্রতিযোগিতা কমবে এবং রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত উৎসে কর ও সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কর জনসাধারণের ওপর অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি করবে। ঢাকার বাইরে রেস্তোরাঁ ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নতুন স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির ওপর কর রেয়াত দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে।  

এক্ষেত্রে নতুন রেস্তোরাঁ স্থাপন ও যন্ত্রপাতির ওপর প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ অবচয় সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়,  এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এ খাতে আরও বিনিয়োগ বাড়াতে স্বল্পসুদে ব্যাংক ঋণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা প্রয়োজন।

সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, ভ্যাট আদায়ের সময় মাসিক থেকে বাড়িয়ে তিন মাস করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করে পূর্বের মতো মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট পরিশোধ ব্যবস্থা বহাল রাখা উচিত। এছাড়া রেস্তোরাঁ খাতকে একটি সমন্বিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার আওতায় এনে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁ শিল্পের জন্য পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়ন এবং লাইসেন্সিং ও কর ব্যবস্থাপনা সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। 

তাদের মতে, বর্তমানে একাধিক দপ্তর থেকে ১০-১২টি অনুমোদন নিতে হওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।  সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলামসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কালের সমাজ/এএইচবি 

Link copied!