ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
ইরান নয়

চুক্তির জন্য মরিয়া ছিল যুক্তরাষ্ট্র:মোজতবা খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | জুন ১৯, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম চুক্তির জন্য মরিয়া ছিল যুক্তরাষ্ট্র:মোজতবা খামেনি
সংগৃহীত ছবি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সমঝোতা স্মারক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তার দাবি, এই চুক্তি ইরানের আগ্রহে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আগ্রহ ও চাপের ফলেই সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আনুষ্ঠানিক এক বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তারা কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আন্তরিকভাবে কাজ করলেও চুক্তিটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে মার্কিন পক্ষই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে।
তার ভাষ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন কূটনৈতিক ও কৌশলগত চাপ প্রয়োগ করেছেন।

চুক্তি নিয়ে নিজের কিছু আপত্তি ছিল বলেও উল্লেখ করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তবে ইরানি জনগণের অধিকার ও দেশের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখেই তিনি এতে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানান।

মোজতবা খামেনি আরও বলেন, চুক্তির বাইরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি অতিরিক্ত কোনো দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ইরান তা মেনে নেবে না। দেশের জনগণকে তিনি চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আয়োজিত এক নৈশভোজে সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, এই সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদি শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সহায়তা করবে।

‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে পরিচিত এই চুক্তির অন্যতম শর্ত হলো লেবাননসহ বিভিন্ন সামরিক ফ্রন্টে সব ধরনের যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান বন্ধ করা।

চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে এক মাসের মধ্যে ইরান সীমান্তের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী ও যুদ্ধজাহাজ সরিয়ে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিনিময়ে ইরান আগামী ৬০ দিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

কালের সমাজ/এএইচবি 
 

Link copied!