কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা দক্ষিণপাড়ায় কলাগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে হৃদয় আহমেদ নামে এক কৃষি উদ্যোক্তার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই গ্রামের দুলাল চন্দ্র শীলের ছেলে ছোটন চন্দ্র শীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান আহত হৃদয় আহমেদ। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাঙ্গড্ডা দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা কৃষক সাইদুল হক ভান্ডারী দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। তার ছেলে হৃদয় আহমেদও একজন কৃষি উদ্যোক্তা। তারা প্রায় ৯একর জমিতে আম, লিচু, ড্রাগন ফল, কলা ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে আসছেন। বাড়ির পাশের পুকুরপাড়েও কলা ও আনারসের চাষ রয়েছে তাদের।
পাশেই দুলাল চন্দ্র শীলের প্রায় ১১ শতক কৃষিজমি রয়েছে, যেখানে সম্প্রতি ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। কলাগাছের কারণে ধানের ক্ষতি হচ্ছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিয়ে সাইদুল হক ভান্ডারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার শরণাপন্ন হন এবং পরে থানায় অভিযোগ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় কলাগাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভে ছোটন চন্দ্র শীলসহ কয়েকজন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হৃদয় আহমেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী হৃদয় আহমেদ বলেন, আমি একজন কৃষি উদ্যোক্তা। দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে কৃষিকাজ করে আসছি। কলাগাছ নিয়ে আমার বাবার সঙ্গে প্রতিবেশী দুলাল চন্দ্র শীলের সাথে বিরোধ হয়। পরদিন সকালে দেখি গাছগুলো কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানাই। পরে পুলিশকে অবহিত করার বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ছোটন চন্দ্র শীলসহ কয়েকজন আমার ওপর হামলা চালায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযুক্ত ছোটন চন্দ্র শীল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি একজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। যে কলাগাছ পল্লী বিদ্যুতের লোকজন কেটেছে, তার দায় আমাদেন ওপর চাপিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি কারও ওপর হামলা করিনি।
স্থানীয় সমাজপতি প্রিয়তোষ চন্দ্র শীল বলেন, যে ঘটনাটি ঘটেছে সে বিষয়ে আমরা কেউ অবগত নই। মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি দুলাল চন্দ্র শীলের উপর হামলা হয়েছে। আমরা শত-শত বছর ধরে হিন্দু-মুসলিম ভাই-ভাই হিসেবে এক সাথে বসবাস করে আসছি।কখনো এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। একেবারেই সামান্য বিষয় এটি।আমরা সবাই মিলেমিশে থাকতে চাই।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফুর রহমান কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।আমি বাহিরে।
কালের সমাজ/কে.পি

