বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) আয়োজিত ‘পাট ফসলের মাঠ দিবস ও বীজ ডিলার কর্মশালা-২০২৬’ আজ ২৫শে জুন বৃহস্পতিবার ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং দেশীয়ভাবে উৎপাদিত জেআরও-৫২৪ জাতের পাটবীজ ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএডিসির সদস্য পরিচালক (বীজ ও উদ্যান) মো. মজিবর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া।
বক্তারা বলেন, পাট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল এবং ‘সোনালী আঁশ’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বর্তমানে পাট উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও পাট রপ্তানিতে প্রথম স্থান অধিকার করে আছে। দেশে প্রতিবছর প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৮ লাখ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয় এবং এ জন্য ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেট্রিক টন পাটবীজের প্রয়োজন হয়।
কর্মশালায় জানানো হয়, বিএডিসি ২০২৪-২৫ উৎপাদন বর্ষে ২ হাজার মেট্রিক টন পাটবীজ উৎপাদন করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেছে। বাকি চাহিদা পূরণে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন বীজ ভারত থেকে আমদানি করতে হয়েছে, যার জন্য বছরে ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়।
বিএডিসি সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় উচ্চ ফলনশীল তোষা পাটের জাত জেআরও-৫২৪ বর্তমানে ‘সিড উইদাউট বর্ডার’ প্রটোকলের আওতায় দেশে উৎপাদন করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ উৎপাদন বর্ষে বিএডিসি এ জাতের ১ হাজার ৩৯৬ মেট্রিক টন পাটবীজ উৎপাদন ও বিতরণ করেছে। আগামী ২০২৬-২৭ উৎপাদন বর্ষে বিভিন্ন জাতের মোট ২ হাজার ২১০ মেট্রিক টন পাটবীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাঠ দিবসে প্রদর্শিত পাটক্ষেতের মালিক কানাইপুরের কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ৪ বিঘা জমিতে বিএডিসির জেআরও-৫২৪ জাতের পাটবীজ ব্যবহার করেছেন। বর্তমানে পাটের অবস্থা অত্যন্ত ভালো এবং তিনি আশাবাদী যে ফলনও সন্তোষজনক হবে। তিনি অন্য কৃষকদেরও বিএডিসির উৎপাদিত এ বীজ ব্যবহারের পরামর্শ দেন।বক্তারা আরও জানান, দেশের পাটবীজের চাহিদা দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণের লক্ষ্যে বিএডিসি চার বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় দেশের ১২টি জেলায় নতুন ১২টি চুক্তিভিত্তিক চাষি জোন স্থাপন করা হবে। এর ফলে ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে বিএডিসির পাটবীজ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার মেট্রিক টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং দেশ পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে।
অনুষ্ঠানে বিএডিসির মহাব্যবস্থাপক (পাটবীজ) দেবদাস সাহা, মহাব্যবস্থাপক (বীজ) মো. আবীর হোসেন, অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক মো. মোসাব্বের হোসেন, মো. সেলিম হায়দার, প্রকল্প পরিচালক মো. হুমায়ুন কবিরসহ বিএডিসি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), বিএআরআই, ব্রি, বিজেআরআই, বিনা, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও পাট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, বীজ ডিলার এবং কৃষকরা অংশ নেন। কর্মশালায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার প্রায় ১৫০ জন বীজ ডিলার এবং ৩০ জনের বেশি পাটচাষি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিএডিসি ফরিদপুর অঞ্চলের উপপরিচালক (বীবি) সৈয়দ কামরুল হক।
কালের সমাজ/কে.পি

