ফরিদপুরের সালথা উপজেলার কুমারকান্দা গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা পান্নু ফকির ওরফে জামু ফকির (৪৫) কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত জামু ফকির কুমারকান্দা গ্রামের মৃত রহমান ফকিরের ছেলে। তিনি- স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও একটি স্কুলের গাছ কাটা নিয়ে কুমারকান্দা গ্রামের নজরুল ইসলাম (৭০) গংদের সঙ্গে জামু ফকিরের বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওই বিরোধের বিষয়ে সালথা থানায় একটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শালিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন তিনি।পরদিন সকালে স্থানীয়রা কুমারকান্দা মাদ্রাসার উত্তর-পশ্চিম পাশে রাস্তার ধারে একটি পাটক্ষেতের কাছে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের চাচা মো. আলী ফকির জানান, কিছুদিন আগে মসজিদের একটি মুরগি কেনা নিয়ে সাঈদ মাতুব্বর, সিদ্দিক মাতুব্বর ও রুহুল মাতুব্বরদের সঙ্গে জামু ফকিরের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এছাড়া জমিজমা ও গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলাম গংদের সঙ্গেও তার বিরোধ চলছিল। তিনি দাবি করেন, থানার শালিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে জামু ফকিরকে কুপিয়ে, পিটিয়ে এবং হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, সিদ্দিক মেম্বারের স্ত্রী দাবি করেন, মসজিদের মুরগি কেনা নিয়ে যে বিরোধ হয়েছিল তা ইতোমধ্যে মীমাংসা হয়ে গেছে এবং বর্তমানে তাদের সঙ্গে জামু ফকিরের কোনো বিরোধ ছিল না। নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা জানান, জমিজমা ও গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে থানায় অভিযোগ থাকলেও ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শালিসের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়। তারা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন। এদিকে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এর আগে রুহুল মাতুব্বর প্রকাশ্যে সিদ্দিক মেম্বারকে জবাই করে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্ব বিরোধের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নগরকান্দা-সালথা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আল ফাহাদ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুরে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে নিহতের পরিবারে শোকের মাতম বিরাজ করছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কালের সমাজ/কে.পি

