বর্ষায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে চলছে রাস্তার পাশে সিসি ড্রেন নির্মাণ কাজ। অতি ধীরগতিতে নির্মাণ কাজ চলায় প্রতিদিন ভাঙ্গছে রাস্তা। ইতোমধ্যে রাস্তার দুই তৃতীয়াংশ ভেঙ্গে গেছে। ফলে চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে জনদুর্ভোগ।
ঝুম বৃষ্টি শুরু হলে পুরো রাস্তাই যে কোন সময় ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ঘটতে পারে প্রাণহানির দুর্ঘটনাও। এটি ঘটেছে পৌর এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বসুনিয়া সড়কের পুলপাড়ায়। পৌর কর্তৃপক্ষের কঠিন নজরদারির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের গতি বৃদ্ধি করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
কথা হয় ভ্যানচালক রহিম, বাইসাইকেল আরোহী ওমর, মোটরবাইক চালক রশিদুল, রিক্সা চালক ফরিদ ও অটোরিক্সা চালক কাওসার রহমানের সঙ্গে। তারা বলেন, সিসি ড্রেন নির্মাণ কাজ যেমন ধীরে চলছে একই সঙ্গে শুরু হয়েছে ভর বর্ষা মওসুম। প্রায়দিনই রাতের বেলা ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। এমন অবস্থায় রাস্তার পুলপাড়া এলাকায় ড্রেন নির্মাণাধীন অংশে ৩০ ফুটের বেশি ভেঙ্গে পড়ে বড় ধরনের খাদের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কোনভাবে যানের চাকা একটু ব্যালেন্স হারালে যাত্রীসমেত খাদে পড়ে যেতে পারে। এমন ঘটনা ঘটলে প্রাণহানিও হতে পারে। তাদেরও দাবি ড্রেন নির্মাণের আগে রাস্তা রক্ষার প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার।
কথা হয় এলাকার সমাজসেবী ও বিশিষ্টজন আসাদুজ্জামান সজল বসুনিয়ার সঙ্গে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বেশ কয়েক মাস আগে থেকে বসুনিয়া সড়কের পাশে সিসি ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজের গতি শ্লথ হওয়ায় চলে আসে বর্ষাকাল। আর এই সময়ে কাজ করতে গিয়ে ভাঙ্গছে রাস্তা। বিশেষ করে সড়কের পুলপাড়া এলাকার দুই-তৃতীয়াংশ ভেঙ্গে পড়ায় আশপাশ এলাকার ১০টি গ্রামের শত শত মানুষের চলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। হালকা যানগুলোও চলছে বেশ ধীর গতিতে।
তার মতে, অটোক্সিায় চেপে শত শত মানুষ দিনরাত এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। পুলপাড়া এলাকার রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় কমপক্ষে ১০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে যাত্রীবাহি কোন রিক্সা, ভ্যান, অটোরিক্সা চলতে গিয়ে একটু সামান্য এদিক ওদিক হলে নির্মাণাধীন ড্রেনে পড়ে যেতে পারে। এতে করে ঘটতে পারে প্রাণহানির ঘটনা। সজল বসুনিয়া আরো অভিযোগ করে বলেন, সকালে এই রাস্তা দিয়ে কয়েকশো শিক্ষার্থী শহরের কলেজ ও স্কুলে যাতায়াত করে। এসব শিক্ষার্থীর বেশির ভাগ অটোরিক্সা অথবা বাইসাইকেল যোগে চলাচল করে। রাতে পানি হলে চলাচলের রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। এমন অবস্থায় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
প্রাণহানির আশংকাও বাদ দেয়ার মতো নয়। এজন্য তিনি জনদুর্ভোগ ও প্রাণহানির ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য ড্রেন নির্মাণের আগে রাস্তার ভাঙ্গা রোধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।
কালের সমাজ/কে.পি

