ভয়ংকর প্রতারক আবু সালেহীন। তার বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের হাসেম বাজার এলাকায়। তিনি জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ছিলেন। নব্বই দশকে যমুনা সেতুতে চাকরি দেয়ার কথা বলে গাইবান্ধার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। সেই অপরাধে তাকে সাসপেন্ড করা হয়।
দীর্ঘ চারবছর সাসপেন্ড থাকার পর তৎকালীন গাইবান্ধা-৫ আসনের এমপি প্রয়াত অ্যাড. ফজলে রাব্বী মিয়ার সুপারিশে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন। সিসিলোন গ্রহীতাদের অনেকের কাছ থেকে পরে পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কৌশলে প্রায় কোটি টাকা আদায় করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউই এক টাকাও ফেরত পাননি। টাকা ফেরত না পেয়ে অনেকেই হতাশায় পড়েছেন।
ভুক্তভোগী পাওনাদের কেউ কেউ আদালতে মামলাও করেছেন। তার বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাকে গ্রেফতার করছে না। রংপুরের সিও বাজারের কাছে সালেহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে তার একটি ক্লিনিক রয়েছে। এটি পরিচালনা করেন তার ছেলে। এই ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে গাইবান্ধা ও বগুড়ায় একাধিক প্রতারণা মামলা রয়েছে।
ভুক্তভোগী পাওনাদের একজন রেজাউন্নবী রাজু। তিনি বলেন, আবু সালেহীন একজন ভয়ানক প্রতারক ব্যক্তি। তিনি জানান, ২০২১ সালে আমার সিসিলোন থেকে আবু সালেহীন ৬ লক্ষ টাকা ধার হিসেবে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ৫ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করেন। কিন্তু চেকটি ডিজঅনার হলে আদালতে মামলা হয়। আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু সদর থানা পুলিশ তাকে দীর্ঘদিনেও গ্রেফতার করেনি, বরং উল্টো থানা থেকে সালেহীনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা গায়েব করে দেয়া হয়। প্রতারক সালেহীনের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা ও বগুড়ায় কমপক্ষে ৮টি প্রতারণা মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে টাকা আদায়ের জন্য ভুক্তভোগী রেজাউন্নবী রাজু দাবি জানান।
কালের সমাজ/কে.পি

