ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুকুর-খাল-জলাশয় রক্ষায় ঢেউ‍‍`র ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে মানববন্ধন

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | জুলাই ৫, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুকুর-খাল-জলাশয় রক্ষায় ঢেউ‍‍`র ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুকুর, খাল, জলাশয় ও পরিবেশ রক্ষায় ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে নদী ও জলাশয় সুরক্ষার সামাজিক সংগঠন ‘ঢেউ’। পরিবেশ রক্ষা, জলাশয় সংরক্ষণ এবং নগরবাসীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা।

রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের পুরাতন কাচারী মোড় (আধুনিক পৌর সুপার মার্কেটের সামনে) ৩৬ জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পরিবেশকর্মী এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ঢেউ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক সোহেল আহাদের ও আলী আকরাম খন্দকার স্বপনের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কমরেড নজরুল ইসলাম, জেলা খেলাঘর সাধারণ সম্পাদক নীহার রঞ্জন সরকার, মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাই সংগঠনের সভাপতি প্রবীর চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হাছান তপু। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ঢেউর যুগ্ম আহবায়ক আমিনুল ইসলাম আহাদ এবং ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক শেখ আরিফ বিল্লাহ আজীজী, ঢেউ এর সদস্য সচিব আইফাত মুন্সী, খোকন মিয়া।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সোহেল আহাদ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একসময় অসংখ্য পুকুর, খাল ও জলাশয়ের জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে অবৈধ দখল, ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে এসব জলাশয় দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে। জলাশয় হারিয়ে যাওয়ার ফলে বর্ষা মৌসুমে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি হবে।

আশরাফুল হাছান তপু বলেন, মাদক যেমন সমাজকে ধ্বংস করে, তেমনি পরিবেশ ধ্বংসও মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়। একটি বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে হলে জলাশয় সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

কমরেড নজরুল ইসলাম বলেন, নদী, খাল ও জলাশয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়, এটি জনগণের সম্পদ। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দখলমুক্ত করে জলাশয় পুনরুদ্ধারের বিকল্প নেই।

নীহার রঞ্জন সরকার বলেন, শিশু-কিশোরদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ প্রয়োজন। পুকুর ও জলাশয় শুধু পানি ধারণ করে না, এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।

আমিনুল ইসলাম আহাদ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনেক ঐতিহাসিক পুকুর ও খাল ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে। যেগুলো এখনও টিকে আছে, সেগুলো রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে খুব শিগগিরই সেগুলোর অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যাবে। পরিবেশ রক্ষার এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়, এটি পুরো জেলার মানুষের আন্দোলন।

মাহফুজুর রহমান পুষ্প বলেন, উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস করা কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে জলাশয় সংরক্ষণকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।

প্রবীর চৌধুরী রিপন বলেন, গণমাধ্যম সবসময় জনস্বার্থের বিষয়গুলো তুলে ধরবে। পরিবেশ ধ্বংস, জলাশয় দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।

শেখ আরিফ বিল্লাহ বলেন, নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ ছাড়া পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জলাশয় সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম। সার্বিক উপস্থাপনায় ছিলেন ঢেউর যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আকরাম খন্দকার স্বপ্ন।

বক্তারা তাদের ৭ দফা দাবির মধ্যে শহরের সব পুকুর, খাল ও জলাশয়ের সঠিক তালিকা প্রণয়ন, অবৈধ দখল ও ভরাট বন্ধ, দখলকৃত জলাশয় পুনরুদ্ধার, জলাশয়ের প্রাকৃতিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর নজরদারি, পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জলাশয় রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি পরিবেশবান্ধব, জলাবদ্ধতামুক্ত ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ কামনা করেন।মানববন্ধন শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক, ব্রাহ্মণবা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারসহ সকল সরকারি সংশ্লিষ্ট  দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!