ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

৭ বছরেও চালু হয়নি মাগুরার ট্রাক টার্মিনাল

হাসনাত হান্নান তামিম, মহম্মদপুর (মাগুরা) | জুলাই ২১, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম ৭ বছরেও চালু হয়নি মাগুরার ট্রাক টার্মিনাল

মাগুরা-ঢাকা হাইওয়ে মহাসড়কের পাশে লক্ষিকান্দর এলাকায় (রামনগর হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ির বিপরীত পাশে) ৬১ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ট্রাক টার্মিনালটি ও চালক বিশ্রামাগারটি এখন কার্যত এক পরিত্যক্ত ও ভুতুড়ে জনপদ। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং দূরপাল্লার চালকদের নিরাপদ বিশ্রামের মহৎ লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত এই বিশাল অবকাঠামোটি এখন ঝোপঝাড় আর আগাছায় ঢেকে যাচ্ছে। দীর্ঘ সাত বছর পার হতে চললেও আলোর মুখ দেখেনি সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুবিশাল ক পার্কিং ইয়ার্ডটি খাঁ খাঁ করছে। বহুতল বিশ্রামাগার ভবনের জানালা-দরজা বন্ধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় এটি নিথর-নির্জন থাকলেও, সন্ধ্যা নামতেই পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায় এবং মাদকসেবী ও বখাটেদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়। পাশেই একটি অসম্পূর্ণ ভবনের কংক্রিট কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে ধীরগতির কাজের নীরব সাক্ষী হয়ে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় দেশের চারটি মহাসড়কে এই আধুনিক টার্মিনাল ও চালক বিশ্রামাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তারই অংশ হিসেবে মাগুরায় ৬৭টি ট্রাক পার্কিং সুবিধা এবং ৫২ শয্যার অত্যাধুনিক চালক বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালের পয়লা জুলাই শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তথ্য অনুযায়ী, ৬.৫৭৭ একর জমির অধিগ্রহণে ২৩ কোটি ৯০ লাখ এবং ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণে ৩৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ ব্যয়ের পরও আলোর মুখ দেখেনি প্রকল্পটি।
স্থানীয় ট্রাক চালক ও শ্রমিকরা জানান, এই রুটে প্রতিদিন শত শত ট্রাক চলাচল করে। এটি চালু না হওয়ায় আমরা সুফল-সুবিধা পাচ্ছি না। ফলে চালকরা বাধ্য হয়ে মহাসড়কের পাশে ট্রাক দাঁড় করাচ্ছেন, যা যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
মাগুরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদ বলেন, আমি সবে কয়েকদিন হলো যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমার তেমন কিছুই জানা নেই। খোজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!