ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

নবীনগরে আদালতের পুকুরপাড় লিজ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | জুলাই ২১, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম নবীনগরে আদালতের পুকুরপাড় লিজ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আদালত পুকুরেরপাড়ের লিজ বাতিলের প্রতিবাদে আজ (২১/৭/২৬) সকাল ১১টায় "নবীনগর সচেতন নাগরিক সমাজ" ব্যানারে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তি। উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন- আবু কামাল খন্দকার, মাহাবুব আলম লিটন, জালাল উদ্দিন মনির, কান্তি কুমার ভট্টাচার্য, শাহীন রেজা টিটু, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, আলমগীর হোসেন, মো. মহসিন মিয়া, আনোয়ার হোসেন, মাহবুবুর রহমান প্রমূখ।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়- সরকারি খাসজমি/পতিত জমি প্রকৃত গরিব, ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের পুনর্বাসন ও জীবিকার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে লিজ দেওয়ার বিধান থাকলেও নবীনগরে আদালত পুকুরপাড়ের লিজ প্রদান নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
আদালত পুকুরপাড়ের একটি অংশ আলমনগর গ্রামের ঠাকুর সূত্রধরের ছেলে অর্জিত সূত্রধর, নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে লিজ নিয়েছেন। তিনি লীজ প্রাপ্তির আবেদনে নিজেকে একজন অত্যন্ত দরিদ্র ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করছেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন-অর্জিত সূত্রধর নবীনগরের একজন প্রতিষ্ঠিত ফার্নিচার ব্যবসায়ী। তার একটি বড় ফার্নিচার কারখানা, একটি বিশাল শোরুম রয়েছে। এ ছাড়া তিনি একাধিক বাড়ির মালিক এবং দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকেছেন।
তারা আরো বলেন- শুধু বর্তমানে এই একটি লিজ নয়, জনস্বার্থে আদালত পুকুরের পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর পাড়ের সকল পাড়ই এমন ব্যক্তিদের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে, যারা ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত ও স্বাবলম্বী। ফলে সরকারি সম্পদ প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পরিবর্তে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলে চলে যাচ্ছে ।
আদালত চত্বরে বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে ওঠায় আদালতের সৌন্দর্য, পরিবেশ ও নিরাপত্তা মারাত্মক ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থীদের চলাচল, আদালতের শৃঙ্খলা এবং সরকারি স্থাপনার স্বাভাবিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন প্রতিবাদকারীরা। মানববন্ধনে বক্তারা আদালত পুকুরপাড়ের অতীত ও বর্তমানের সকল লিজ বাতিল, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা এবং আদালত এলাকার পরিবেশ ও নান্দনিকতা রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অর্জিত সূত্রধর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন-"আমি সরকারি নিয়ম মেনেই লিজ নিয়েছি, গ্রামে আমার একটি পৈত্রিক বাড়ি এবং ভাড়ায় ক্ষুদ্র একটি দোকান আছে কিন্তু সেটা বাণিজ্যিক এলাকা নয়। জীবিকার তাগিদে কিছু দিন বিদেশে ছিলাম, সেখানে সুবিধা করতে পারিনি। তাই পৌর সদরের বাণিজ্যিক এলাকায় একটি দোকান লীজ নিয়েছি।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!