চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে আগামীকাল রোববার (৯ আগস্ট) ফটিকছড়িতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দেশের বিভিন্ন আলেমের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ফটিকছড়িতে ব্যাপক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের জন্য উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজী দিঘির সিঅ্যান্ডবি মাঠে নির্মাণ করা হেলিপ্যাডের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। গতকাল হেলিপ্যাডসহ সফরসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মুহাম্মদ হেলাল, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া ও জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মাসুদ আলমসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভার বাবুনগরে অবস্থিত জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন। সেখানে হেফাজত আমিরের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন আলেমের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়ির বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করেছেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আজিম উল্লাহ বাহারের অনুসারীরাও পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মাসুদ আলম জানান, ভেন্যু ও সড়ককেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আড়াই থেকে তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
হেফাজত আমিরের দৌহিত্র রহমত উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর দাদাকে ফটিকছড়িতে আসার কথা দিয়েছিলেন। সেই কথার অংশ হিসেবেই তাঁর এই সফর। বাবুনগর মাদ্রাসার প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ফটিকছড়ি সফর শেষে হাটহাজারীতে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি মরহুম আল্লামা আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন। পরে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনসংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বাঁশখালী ও কক্সবাজারের মহেশখালীতেও প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম চট্টগ্রাম সফর। ফলে সফরকে ঘিরে প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
কালের সমাজ/কে.পি

