ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
দাফন দাদা-দাদীর কবরের পাশে

মাদারীপুরের ছেলে ৪৫তম বিসিএস সুপারিশপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মীর তানভীরের

জেলা প্রতিনিধি, মাদারীপুর | আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম মাদারীপুরের ছেলে ৪৫তম বিসিএস সুপারিশপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মীর তানভীরের

মাদারীপুরের শিবচরের কাদিরপুরের ডিগ্রিচর গ্রামের সন্তান এবং ৪৫তম বিসিএসে কৃষি কর্মকর্তা পদে সুপারিশপ্রাপ্ত মীর তানভীর আহমেদের (২৯) জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় নিজ গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

মীর তানভীর আহমেদ দেবীগঞ্জ কৃষি ফার্মের খামার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকায় রেললাইনের পাশে তার খণ্ডিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মরদেহের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে ছিল। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়। সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
নিহতের বাবা অভিযোগ করে বলেন, দিনাজপুরে কর্মরত থাকার সময় তার ছেলে ওই এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছিলেন। সেই বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে পরিবারের আশঙ্কা। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মীর তানভীরের মতো একজন তরুণ ও মেধাবী কর্মকর্তা কীভাবে রেললাইনের পাশে খণ্ডিত অবস্থায় পড়ে থাকলেন এ প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই বের করতে হবে। এটি নিছক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ,তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

মীর তানভীর আহমেদের চাচাতো ভাই ও গণমাধ্যমকর্মী মীর মফিজুল ইসলাম ইমরান বলেন, “তানভীর আমাদের পরিবারের একজন আদর্শবান, নীতিবান ও ভদ্র ছেলে ছিল। সে আমাদের বংশের একটি প্রদীপ ছিল। তার মরদেহের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকার ঘটনায় আমাদের সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে। আমরা কোনো অনুমান বা গুজব চাই না; নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন চাই।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রশ্ন একজন মেধাবী তরুণ, যিনি ৪৫তম বিসিএসে কৃষি কর্মকর্তা পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছিলেন, তার এমন করুণ পরিণতি কেন হলো?

যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তাহলে কারা এর সঙ্গে জড়িত, কী কারণে তাকে হত্যা করা হলো এবং হত্যার পেছনে কোনো বিরোধ বা স্বার্থ কাজ করেছে কি না ,প্রতিটি বিষয় তদন্তে বেরিয়ে আসতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমাদের একটাই দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে তানভীরের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা হোক এবং কেউ জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।

মীর তানভীরের জানাজায় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও তার সহকর্মীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে উপস্থিত অনেকের চোখে ছিল শোক আর ক্ষোভ। তাদের দাবি, একজন সম্ভাবনাময় তরুণের এমন অস্বাভাবিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর রহস্য কোনোভাবেই ধামাচাপা দেওয়া যাবে না।

জানাজা থেকে ফেরার পথে স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, একজন তরতাজা যুবকের মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় রেললাইনের পাশে পড়ে থাকার বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, দুর্ঘটনা হলে তার প্রমাণ যেমন বের করতে হবে, তেমনি হত্যাকাণ্ডের আলামত পাওয়া গেলে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

মীর তানভীর আহমেদের মৃত্যুতে মাদারীপুরের শিবচরের কাদিরপুরের ডিগ্রিচরের মীর বাড়ি গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যদের কান্না আর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
এখন পরিবারের একটাই দাবি ,মীর তানভীরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটন হোক। এটি যদি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তাহলে হত্যার নেপথ্যের কারণ, পরিকল্পনাকারী ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের কঠোর আওতায় আনা হোক।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!