ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

রাস্তার ধারে গেন্ডারির জমজমাট বেচাকেনা খুচরা বিক্রিতে লাভবান মানিকগঞ্জের কৃষক

জেলা প্রতিনিধি,মানিকগঞ্জ | সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম রাস্তার ধারে গেন্ডারির জমজমাট বেচাকেনা খুচরা বিক্রিতে লাভবান মানিকগঞ্জের কৃষক

একসময় মানিকগঞ্জের আখ বা গেন্ডারি মূলত হাট-বাজার ও পাইকারি আড়তেই বিক্রি হতো। বাড়িতে অতিথি কিংবা আত্মীয়-স্বজন এলে বাজার থেকে আখ কিনে আনার প্রচলন ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। জেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে এখন কৃষকেরা নিজেরাই গেন্ডারি বিক্রি করছেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি খুচরা বিক্রিতে তুলনামূলক বেশি লাভ করছেন কৃষকেরা। মানিকগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে দেখা যায়, কৃষকেরা খেত থেকে গেন্ডারি এনে স্তূপ করে বিক্রি করছেন। পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা রাস্তার পাশ থেকেই পছন্দের আখ কিনে নিচ্ছেন। কেউ কেউ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য একসঙ্গে কয়েকটি আখ কিনে বাড়ি ফিরছেন।
 

কৃষকেরা জানান, আগে পাইকারের কাছে আখ বিক্রি করায় প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যেত না। বর্তমানে সরাসরি ভোক্তার কাছে খুচরা বিক্রি করায় প্রতিটি আখ থেকে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের লাভও বাড়ছে। গেন্ডারি চাষিরা জানান, বিভিন্ন জাতের আখের মধ্যে বোয়াই গেন্ডারি, লাল গেন্ডারি, সাদা গেন্ডারি ও মোটা গেন্ডারির চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে নরম, রসালো ও মিষ্টি গেন্ডারি ক্রেতাদের কাছে বেশি জনপ্রিয়। কৃষকদের ভাষ্য, গেন্ডারি চাষে সময় ও শ্রম বেশি লাগলেও খুচরা বাজারে সরাসরি বিক্রি করতে পারলে ভালো লাভ করা সম্ভব। তাই লাভের আশায় অনেক কৃষক নতুন করে আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জে প্রায় ৭৪ একর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। আখের সঙ্গে ধনেপাতা, লালশাক, মুলাসহ বিভিন্ন সাথী ফসল চাষ করেও কৃষকেরা বাড়তি আয় করছেন। কৃষকেরা বলছেন, গেন্ডারির চাহিদা ও বাজারমূল্য ভালো থাকলে আখ চাষ মানিকগঞ্জের কৃষকদের জন্য আরও লাভজনক ফসলে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে বিক্রির সুযোগ বাড়লে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কৃষকেরাও ন্যায্যমূল্য পাবেন।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!