ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহজাদপুরে মিথ্যা মামলা দায়ের বাদীর বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ | অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম শাহজাদপুরে মিথ্যা মামলা দায়ের বাদীর বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে মামলার বাদী মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৬ ধারায় একটি মিস মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শাহজাদপুর চৌকি আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোসলেম উদ্দীন এ আদেশ দেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) শাহজাদপুর আমলী আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর গ্রামের মৃত পলান সরকারের ছেলে মোঃ মোজাহার একই গ্রামের মৃত আলীমুদ্দিনের ছেলে মোঃ উজ্জল আলী প্রামানিকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় একটি নালিশি মামলা করেন।

মামলার নালিশি দরখাস্তে মোজাহার দাবি করেন, ১৯৯০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চাঁদ আলীর কাছ থেকে কায়েমপুর মৌজার এসএ ১৫৫২ ও আরএস ২৩৭৬ খতিয়ানের কয়েকটি দাগের সম্পত্তি ১৭২৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তিনি প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখলে ছিলেন। মামলায় তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁর নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে অন্য কোনো ব্যক্তির স্বাক্ষর সংযুক্ত করে ১৯৯২ সালের ২২ এপ্রিল শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২৪৫২ নম্বর একটি বিনিময় দলিল তৈরি করা হয়। তিনি ওই দিন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো দলিল সম্পাদন করেননি এবং ওই দলিলে থাকা স্বাক্ষরও তাঁর নয় বলে দাবি করেন।

এ ছাড়া দলিলটি যোগসাজশের মাধ্যমে জালিয়াতির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং দলিলে উল্লেখিত সম্পত্তি তিনি বিবাদীকে দখল দেননি বলেও অভিযোগ করেন বাদী মোজাহার।

সিআইডির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি

পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি, সিরাজগঞ্জকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করেন সিআইডি সিরাজগঞ্জের এসআই মোঃ আব্দুস সালাম।

তদন্তকালে সাক্ষীদের বক্তব্য, হস্তলিপি বিশারদের মতামত, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞের মতামত এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা পর্যালোচনা করা হয়। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উজ্জল আলী প্রামানিকের বিরুদ্ধে বাদীর আনা দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১, ১১৪ ও ৩৪ ধারার অভিযোগের পক্ষে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

মিথ্যা মামলা নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ

নালিশি দরখাস্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে বৈপরীত্যের বিষয়টি উল্লেখ করে আদালত মামলাটি মিথ্যা মর্মে পর্যবেক্ষণ করেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে যথাযথ ও আইনগত কারণ না থাকা সত্ত্বেও আক্রোশবশত বা ধারণাপ্রসূত অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে তিনি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২১১ ধারার অপরাধে দোষী হতে পারেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ২১১ ধারার অপরাধ আমলে নেওয়ার বিষয়ে কেন বাদীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর দেওয়া ১২ নম্বর আদেশে আদালত মোঃ মোজাহারকে এ নির্দেশ দেন।

তবে ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে উপস্থিত হলেও তিনি কোনো কারণ দর্শানোর ব্যাখ্যা দেননি। এরপর ২৭ এপ্রিল, ১৬ জুন, ৬ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ ১ অক্টোবরও তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর বিষয়েও কোনো পদক্ষেপ নেননি।

বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বারবার আদালতে অনুপস্থিত থাকা এবং কারণ দর্শানোর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালত মোঃ মোজাহারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আদালতের আদেশে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৯৫(১)(বি) ধারার বিধান সাপেক্ষে একই আইনের ৪৭৬ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদেশ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে একটি মিস মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে নালিশি মামলার বাদী মোঃ মোজাহারকে আসামি করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আদালতের এ আদেশের ফলে যে মামলায় মোজাহার বাদী ছিলেন, সেই মামলাতেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হলো।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!