ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

অসময়ের তরমুজ চাষে হাসানুরের সাফল্য

হাসনাত হান্নান তামিম, মহম্মদপুর (মাগুরা) | অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম অসময়ের তরমুজ চাষে হাসানুরের সাফল্য

মাগুরার মহম্মদপুরে মাচাজুড়ে ঝুলছে হলুদ ও সবুজ রঙের তরমুজ। রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এমন দৃশ্য চোখে পড়লে পথচারীদের অনেকেই থমকে দাঁড়াচ্ছেন। কেউ কৌতূহলী হয়ে ক্ষেত দেখছেন, কেউ আবার ছবি তুলছেন। আর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. হাসানুর রহমান।
মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ভাবনপাড়া গ্রামের কৃষক হাসানুর রহমান মাত্র পাঁচ শতাংস জমিতে অসময়ে চাষ করেছেন দুই জাতের তরমুজ- ‘ব্লাক বেরি’ ও ‘ইয়োলো মেলন’। এর মধ্যে হলুদ রঙের তরমুজই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে।
জানা যায়, মাগুরা জেলা শহর থেকে ২০ গ্রাম বীজ কিনতে তাঁর খরচ হয়েছে এক হাজার ৩০০ টাকা। সেই বীজ থেকে নিজেই চারা উৎপাদন করেন তিনি। পরে গত আগস্টে জমিতে চারা রোপণ করেন। প্রায় দেড় মাসের পরিচর্যার পর গাছে ফল আসতে শুরু করে।
তরমুজ চাষের জন্য তিনি প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে বাঁশের খুঁটি ও নাইলনের নেট দিয়ে মাচা তৈরি করেছেন। সেই মাচা বেয়ে লতানো গাছগুলো ছড়িয়ে পড়েছে। মাচায় ঝুলে থাকা একেকটি হলুদ তরমুজ যেন সবুজের মধ্যে আলাদা এক রঙিন সৌন্দর্য তৈরি করেছে।
মো. হাসানুর রহমান বলেন, “নিতান্তই শখের বশে তরমুজ চাষ করেছি। মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজ দেখতে খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে হলুদ রঙের তরমুজ সহজেই মানুষের নজর কাড়ে।”
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন ও লাভজনক ফসলের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষিতে বৈচিত্র্য আসবে। হাসানুর রহমানের এই উদ্যোগ সেই সম্ভাবনারই একটি আশাব্যঞ্জক উদাহরণ।
উপজেলা কৃষি অফিসার ইশরাত জাহান শিলু বলেন, “এ অঞ্চলের কৃষকরা সাধারণত তরমুজ চাষ করেন না। তবে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হাসানুর রহমানের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা তাঁকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছি। তাঁর সাফল্য দেখে ভবিষ্যতে এলাকার অন্য কৃষকরাও তরমুজ চাষে আগ্রহী হতে পারেন।”

কালের সমাজ/কে.পি


 

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!