মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর ছুরিকাঘাতে রাশেদুল নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে স্ত্রী হাসনা বেগম পলাতক রয়েছেন।
নিহত রাশেদুল দক্ষিণ ধল্লা গ্রামের মৃত সুরমান আলীর ছেলে। তাঁর স্ত্রী হাসনা বেগমের বয়স ৩৬ বছর। তিনি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া এলাকার মো. বারেকের মেয়ে। প্রায় ১৮ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। এ দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, স্বামীর পরকীয়ায় জড়িত থাকার সন্দেহ করতেন হাসনা বেগম। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে সন্দেহ ও মনোমালিন্য চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ভোরে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাসনা বেগম ধারালো ছুরি দিয়ে রাশেদুলের পেটে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে অটোরিকশায় হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর হাসনা বেগম ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ঘটনাস্থলে রেখে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে সিংগাইর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
সিংগাইর থানার (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনার পর হাসনা বেগম পালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
কালের সমাজ/কে.পি

