বরগুনার আমতলী উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরি, রং করা, মণ্ডপ সাজানো ও আলোকসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পী ও আয়োজকেরা। এবার উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ২১অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব। সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। কোথাও প্রতিমায় রং করা হচ্ছে, কোথাও চলছে পোশাক, অলংকার ও সাজসজ্জার কাজ। পাশাপাশি মণ্ডপে প্যান্ডেল নির্মাণ ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতিও চলছে।
এদিকে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিমা ও মণ্ডপের কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আয়োজকদের আশা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে আমতলীতে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে। প্রতিমাশিল্পীরা জানান, পূজার আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন—রাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে তাঁদের। প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও বেড়েছে। তাই সীমিত বাজেটের মধ্যে প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করতে হচ্ছে। উপজেলায় ১৬টি পূজামণ্ডপের মধ্যে গুলিশাখালী ইউনিয়নে চারটি, আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নে চারটি, কুকুয়া ইউনিয়নে একটি, চাওড়া ইউনিয়নে দুটি, হলদিয়া ইউনিয়নে একটি এবং আমতলী পৌরসভায় চারটি মণ্ডপ রয়েছে। আমতলী উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি হরিহর চন্দ্র দাস বলেন, এবার উপজেলায় ১৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
ইতিমধ্যে মণ্ডপগুলোতে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। পূজা উপলক্ষে আরতি, গীতাপাঠ ও ধর্মীয় সংগীতের আয়োজন করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন এবং ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আমতলী থানার (ওসি) মো ইয়াকুব হোসাইন বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ সতর্ক থাকবে। কেউ এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কালের সমাজ/কে.পি

