ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ইছামতি বিলে নীল শাপলার মায়াবী সৌন্দর্য

হাসনাত হান্নান তামিম, মহম্মদপুর (মাগুরা) | অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম ইছামতি বিলে নীল শাপলার মায়াবী সৌন্দর্য

চারদিকে থইথই পানি। আকাশজুড়ে সাদা-কালো মেঘের আনাগোনা। বিলের কালচে পানিতে ফুটে আছে অসংখ্য নীল শাপলা। কোথাও শিকারের সন্ধানে ঘুরছে বক ও মাছরাঙা পাখি। চোঠ তালের ডোঙ্গায় দেশিয় মাছ ধরছেন কেউ কেউ। প্রকৃতির এমন মায়াবী রূপে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ইছামতি বিল।
খুব বেশি দর্শনার্থীর ভিড় না থাকলেও প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রকৃতিপ্রেমী অনেক মানুষ ছুটে আসছেন এই জলাভূমির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। বিলে জাতীয় ফুল শাপলা থাকলেও সবার দৃষ্টি কাড়ছে নীল শাপলা। বিস্তীর্ণ জলরাশির বুকে ফুটে থাকা নীল ফুলের সারি যেন প্রকৃতির আঁকা এক অনন্য ও অনবদ্য ছবি।
বাংলাদেশের বিল-ঝিলে সাদা শাপলার দেখা মেলে সব থেকে বেশি। কোথাও কোথাও লাল শাপলাও দেখা যায়। সেখানে ইছামতি বিলের নীল শাপলার আধিক্য একে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। এই নীলাভ সৌন্দর্য মনে করিয়ে দেয় পৌরাণিক সাহিত্যের নীলকমল কিংবা কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় উঠে আসা নীল পদ্মের অনুষঙ্গ। প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্যের সামনে দাঁড়ালে নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে মন ভরে ওঠে প্রশান্তিতে। স্থানীয়রা জানান, বিলে যখন পানি বেশি হয়, তখন সাদা শাপলার পাশাপাশি নীল শাপলা ফুলে ভরে যায়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিল হলেও এখানে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক মানুষ ঘুরতে আসেন। বিলের মাঝের এই রাস্তা দিয়ে নতুন কোনো মানুষ গেলে বিলের ধারে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির এই দৃশ্য উপভোগ করেন।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া থেকে ঘুরতে আসা নাদিম শহারিয়ার বলেন, ‘এই জায়গাটি অনেক সুন্দর। সুযোগ পেলে মাঝেমধ্যেই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে এখানে আসি। সত্যি মন ভরে যায়।’ নীল শাপলার অপরূপ সমারোহ, বিস্তীর্ণ জলরাশি আর গ্রামীণ পরিবেশ; সব মিলিয়ে ইছামতি বিল হতে পারে প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণীয় গন্তব্য। শহরের কোলাহল পেরিয়ে নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে এই বিলে ঘুরে আসা হতে পারে প্রশান্তিময় এক অভিজ্ঞতা।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!