আশ্বিন পেরিয়ে কার্তিকের শুরুতে উত্তরের জনপদ কুড়িগ্রামে শীতের আনাগোনা শুরু হয়েছে। ভোরের দিকে হালকা কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে ফসলের মাঠ, গ্রামের রাস্তা আর নদী-চর। সবুজ ধানের ক্ষেতে জমে থাকছে শিশির, গাছপালা ভেজা থাকছে সকাল পর্যন্ত।ধূসর আকাশের নিচে গাছপালা ঝাপসা, মাঠে জমে আছে কুয়াশা। ভোরে হাঁটতে বের হলেই গায়ে লাগছে হালকা ঠান্ডা।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, শনিবার কুড়িগ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩-২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যার পর থেকেই হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে, ভোরে বাড়ছে কুয়াশার ঘনত্ব। আগামী কয়েকদিনে রাতের তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোরে মাঠে কাজে যাওয়া কৃষকরা বলছেন, ধানের জমিতে শিশির পড়ছে, ঘাস ভেজা থাকছে। জেলার কোথাও কোথাও আমন ধান কাটার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কৃষকদের সকাল শুরু হচ্ছে কুয়াশা ভেদ করে।
অন্যদিকে গ্রামের হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতের পোশাক। শীতের আগমনে পুরনো কম্বল, শাল, সোয়েটার রোদে শুকাতে দেখা যাচ্ছে নারীদের।
শীত বাড়ার সঙ্গে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের মতো রোগে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুদের বেশি ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য বাড়তি যত্নের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ভোরে খালি গায়ে বের না হওয়া, গরম পানি পান করা এবং শিশুদের উষ্ণ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে প্রতি বছরই শীত একটু আগে ও একটু বেশি পড়ে। তাই কুয়াশার এই শুরু অনেকের কাছেই জানান দিচ্ছে, জমে উঠছে আসল শীতের মৌসুম।

