ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

৫ একর জমি হারিয়ে পথে পথে ভিক্ষা করছেন মাহামুদা বেগম

নাইক্ষ্যংছড়ি | অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম ৫ একর জমি হারিয়ে পথে পথে ভিক্ষা করছেন মাহামুদা বেগম

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ২৮০ নম্বর আলীক্ষ্যং মৌজার ধুইল্ল্যা ঝিরি এলাকায় নিজের নামে বন্দোবস্ত পাওয়া ৫ একর জমি ফিরে পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন বয়োবৃদ্ধ ভূমিহীন নারী মাহামুদা বেগম।

আবেদন সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালের ১ জুলাই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদেশক্রমে ১৯৮০-৮১ সালের ৫৭০৫ নম্বর বন্দোবস্তি মোকদ্দমার মাধ্যমে তাঁকে ৫ একর জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন জমিটি ভোগদখলে রেখে চাষাবাদ ও রাবার বাগান গড়ে তোলেন তিনি। তবে তাঁর অভিযোগ, মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৮৬-৮৭ সালের একটি মিস মোকদ্দমার মাধ্যমে জমিটি খাস খতিয়ানভুক্ত করে বন্দোবস্ত বাতিল করা হয়।

মাহামুদা বেগমের দাবি, তিনি কখনো ওই এলাকা ছেড়ে যাননি। জীবনের শেষ সম্বল জমি হারিয়ে বর্তমানে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে জীবন চালাতে হচ্ছে তাঁকে। বন্দোবস্তির নথিতে বাবার নামের পরিবর্তে স্বামীর নাম লিপিবদ্ধ হওয়ার ভুল সংশোধনসহ জমির বন্দোবস্তি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগে আব্দুর রহমান প্রকাশ গুরামিয়ার নাম উঠে এলেও জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। অভিযোগ অস্বীকার বা স্বীকার না করে তিনি বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

এদিকে, সরেজমিনে জমি পরিদর্শন শেষে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সার্ভেয়ার মো. ইবরাহিম জানান, সেখানে পুরোনো রাবার বাগান ও দীর্ঘদিনের দখলের আলামত দেখা গেছে। জমি খাস করার আইনগত ভিত্তি ও আবেদনকারীর নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে কোনো ভুল বা জালিয়াতি পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

নিজের জমি ফিরে পেতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন অসহায় মাহামুদা বেগম।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!