বান্দরবানের কাশেমপাড়া ৯নং ওয়ার্ডে পুরাতন সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলেও ধীরগতির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। বর্ষার অতিবৃষ্টিতে কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদার, ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
প্রায় ৬ হাজার মানুষের বসবাস এই এলাকায়। স্থানীয়দের চলাচলের একমাত্র প্রবেশপথে সেতুটি ভেঙে ফেলার পর বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করা হয়। তবে সেটিও ভেঙে বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে বড় ঝুঁকি।
কাশেমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। স্কুলের সহকারী শিক্ষক উ সিং প্রু মারমা জানান, “অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। তাছাড়া বিদ্যালয়ের মাঠে ঠিকাদারের নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখায় স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।”
এলাকার বাসিন্দা মো. আবু তৈয়ব বলেন, “নতুন সেতু নির্মাণের নামে পুরনো সেতুটি ভেঙে ফেলা হলেও কাজ এগোয়নি। এতে জনগণের দুর্ভোগ সীমাহীন হয়ে পড়েছে।”
আরেক বাসিন্দা মো. আবুল কালাম বলেন, “শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন আহত হচ্ছে, অথচ কর্তৃপক্ষ উদাসীন।”
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ২৩ লাখ টাকায় ৩২ ফুট দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় মায়াধন কনস্ট্রাকশন। ২০২৪ সালের ১ জুলাই কাজ শুরু হয়ে একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সময় শেষ হলেও কাজের অগ্রগতি নেই।
বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস. এম. মনজুরুল হক বলেন, “ঠিকাদার সময়মতো কাজ শেষ করতে পারেনি। জনদুর্ভোগ বেড়ে যাওয়ায় প্রকৌশল শাখার একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আশা করছি দ্রুত কাজ শুরু হবে এবং জনগণের দুর্ভোগ লাঘব হবে।”
কালের সমাজ // র.ন


আপনার মতামত লিখুন :