ঢাকা শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২

সিরাজগঞ্জে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিয়ে ক্ষোভ

জলিলুর রহমান জনি, সিরাজগঞ্জ | জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম সিরাজগঞ্জে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিয়ে ক্ষোভ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিয়ে সিরাজগঞ্জে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তারেক জিয়া পরিষদ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ জুবায়ের আজিম।

বৃহস্পতিবার  এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও রাজনৈতিকভাবে পরীক্ষিত পরিবারকে উপেক্ষা করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দলের ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

মো. জুবায়ের আজিম বলেন, তাঁর বাবা মোঃ জহুরুল হক মন্টু ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২নং বাগবাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন সরকারি ভূমি কর্মকর্তা ছিলেন। তবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তাঁকে সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূতভাবে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মোঃ জহুরুল হক মন্টু সিরাজগঞ্জ জেলার একজন সুপরিচিত শিক্ষানুরাগী ও ক্রীড়ানুরাগী ব্যক্তিত্ব। তাঁর হাত ধরেই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার প্রসার ঘটে। তিনি জুবায়দা প্রভা কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল, বাগবাটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ (বর্তমানে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পিপুলবাড়িয়া বাজার), হরিনা বাগবাটি গার্লস হাই স্কুলসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে বাগবাটি ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন।

জুবায়ের আজিম আরও উল্লেখ করেন, তাঁর ছোট ভাই জুলিয়াস আমর তালহা বাগবাটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তাঁর মা আরিফা হক ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত একটানা প্রায় ১০ বছর ২নং বাগবাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এমন একটি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ত্যাগী পরিবারের প্রতিনিধিকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে রাখা হয়নি—এ নিয়ে তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কমিটিতে সাবেক যুবলীগ নেতা, রাজনৈতিকভাবে অপরিণত কিছু ব্যক্তি এবং যাদের পরিবারের সদস্যরা সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদাবাজি ও অপকর্মে জড়িত—এমন লোকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জেলা ও থানা বিএনপির নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কারো বাপ-দাদার সম্পত্তি নয়। ধানের শীষ প্রতীক জনগণের প্রতীক, ত্যাগী নেতাদের প্রতীক। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি শঙ্কিত।”

পরিশেষে তিনি তাঁর বাবার বক্তব্য স্মরণ করে বলেন, “আমার বাবা আমাকে সবসময় বলেছেন—তোমার দ্বারা যেন দলের চুল পরিমাণও ক্ষতি বা দুর্নাম না হয়। দলকে পবিত্র কোরআনের মতো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসবে। আমি সে পথেই চলছি এবং চলতে থাকব।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ইনশাআল্লাহ আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন,“বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি জিন্দাবাদ।

Side banner
Link copied!