আলীকদমে ম্রোদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মিছিল ও মানববন্ধন
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় কলা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ম্রো জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মিছিল ও মানববন্ধন করেছে ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে আলীকদম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়ে উপজেলা পরিষদের সামনে এসে শেষ হয়। ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের সভাপতি সেথং ম্রো’র নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের সচেতন জনগণ অংশ নেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কফিল উদ্দিন, জেএসএস (রাজনৈতিক দল) উপজেলা সভাপতি পিলিপ ত্রিপুরা, চাহ্লামং মার্মা, অক্যজাই মারমা, ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের সভাপতি সমথং ম্রো, জানালীপাড়ার কারবারি পাচ্ছো ম্রোসহ প্রায় ৩০০ জন স্থানীয় বাসিন্দা।
প্রতিবাদকারীরা জানান, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করলে ছয়জন আহত হন। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। আহতরা হলেন—অমর ত্রিপুরা (৫৫), ডাংইয়া ম্রো (৫৩), পেক কিউ ম্রো (২৬), লাংচিং ম্রো (৩৩), খংনং ম্রো (৫৫) ও অংচং ম্রো (৩০)। তারা সবাই ৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জানালীপাড়ার বাসিন্দা। গুরুতর আহত অমর ত্রিপুরা, ডাংইয়া ম্রো ও খংনং ম্রোকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়।
মানববন্ধনে ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের সভাপতি সেথং ম্রো বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে সন্ত্রাসী জাফর আলমকে গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব। তখন সম্প্রীতির আলীকদম আর থাকবে না। সাত দিনের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার না হলে থানা ঘেরাও করা হবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই সেনাজোনের পক্ষ থেকে আহতদের খোঁজখবর নেওয়া ও আসামি ধরতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করায় ম্রো নেতৃবৃন্দ সেনাজোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জানালীপাড়ার কারবারি পাচ্ছো ম্রো বলেন, আলীকদম সবসময় সম্প্রীতির জায়গা হিসেবে পরিচিত। এখানে আগে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। জাফরের মতো সন্ত্রাসীরা আশ্রয় না পেলে এমন সহিংসতা হতো না। ভবিষ্যতে রক্তপাত এড়াতে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
নয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. কফিল উদ্দিন বলেন, জাফর একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। দীর্ঘদিন ধরে সে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। বহুবার সতর্ক করা হয়েছে। সে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান ও মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। তিনি তিন কার্যদিবসের মধ্যে জাফর আলমকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলমের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলীকদম থানার উপপরিদর্শক আবু সাইদ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজন আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :