শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের দাওয়াকুড়া গ্রামে গলায় ফাঁস দিয়ে হামিদুল ইসলাম (২৬) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ওই গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে পুলিশ তার নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে রাতের খাবার শেষে হামিদুল ইসলাম বসতঘরের উত্তর পাশের একটি কক্ষে ঘুমাতে যান। ওই সময় তার স্ত্রী শুকতারা বেগম একই কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
রাত আনুমানিক ১১টার দিকে স্ত্রী ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখেন, হামিদুল ঘরের ধরণার সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে আছেন। এ দৃশ্য দেখে তিনি চিৎকার করলে শাশুড়ি মরিয়ম বেগমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তারা হামিদুলকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
নিহতের বাবা আলী হোসেন জানান, পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় দুই বছর আগে হামিদুলের স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। হামিদুলের চার বছর বয়সী মিনহাজ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়াহেদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেই হামিদুল ইসলাম আত্মহত্যা করেছেন।
তিনি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কালের সমাজ/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :