ঢাকা বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

প্রতীক পাওয়ার পর মান্দায় নির্বাচনী প্রচারণা, গণসংযোগে ব্যস্ত প্রার্থীরা

জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ | জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম প্রতীক পাওয়ার পর মান্দায় নির্বাচনী প্রচারণা, গণসংযোগে ব্যস্ত প্রার্থীরা

প্রতীক পাওয়ার পর মান্দায় নির্বাচনী প্রচারণা, গণসংযোগে ব্যস্ত প্রার্থীরা
প্রতীক বরাদ্দের পরপরই নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, সড়ক ও গ্রামাঞ্চলে প্রার্থীদের মাইকিং, পোস্টার লাগানো ও গণসংযোগ করতে দেখা গেছে।
ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, লাঙ্গল, হাতপাখা, কাস্তে ও কলস প্রতীকের সমর্থনে প্রার্থীরা নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। সকাল ও বিকেলভিত্তিক গণসংযোগের পাশাপাশি সন্ধ্যার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাইকিং করে ভোটারদের কাছে নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

প্রচার শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে প্রশাসনের তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও হাট-বাজারে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ব্যানারের নির্ধারিত মাপ যাচাই, মাইক ব্যবহারের সময়সীমা অনুসরণ এবং উচ্চশব্দে প্রচারণা নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী প্রচারণা চালাতে প্রার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রচার শুরুর বিষয়ে কয়েকজন প্রার্থী বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে পারলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে তারা সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে প্রচারণা শুরু হওয়ায় মান্দা উপজেলায় নির্বাচনী আমেজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। হাট-বাজারে ভোটারদের মধ্যে প্রার্থী ও প্রতীক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় ভোটারদের প্রত্যাশা, এবারের নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই। প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই প্রার্থীরা প্রচারণায় নামতে পারবেন, তবে তা অবশ্যই আইনানুগ হতে হবে। মাঠপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।” তিনি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
 

এর আগে বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
মান্দা আসনে এবার ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে ডা. ইকরামুল বারী টিপু (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি) পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক, খন্দকার মুহা. আব্দুর রাকিব (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, আলতাফ হোসেন (জাতীয় পার্টি) পেয়েছেন লাঙ্গল, সোহরাব হোসাইন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) পেয়েছেন হাতপাখা, ডা. এস এম ফজলুর রহমান (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি) পেয়েছেন কাস্তে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম ফেন্সি পেয়েছেন কলস প্রতীক।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৪ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ২১২ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন চারজন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মান্দা আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

Side banner

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!