পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর পাঁচ বছরের শিশু রাইয়ান মল্লিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় শিশুটির চাচাতো ভাইসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত রাইয়ান মল্লিক ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের আতরখালি গ্রামের রাসেল ও তন্বী দম্পতির একমাত্র সন্তান। গত শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় সে।
নিখোঁজের পরদিন রবিবার রাইয়ানের মা তন্বী ভান্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও ভান্ডারিয়া থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের এক পর্যায়ে সোমবার রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে শিশুটির বাড়ির পাশের একটি গোয়াল ঘরের ভেতর খড়কুটার মধ্যে বস্তাবন্দি অবস্থায় রাইয়ানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় স্থানীয়দের সহায়তায় পাশের একটি মসজিদের বারান্দা থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। চিরকুটটির হাতের লেখার সূত্র ধরে সন্দেহভাজন হিসেবে শিশুটির চাচাতো ভাই মোহাম্মদ রিয়াদ মল্লিককে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে চিরকুটটি তারই লেখা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
মোহাম্মদ রিয়াদ মল্লিক (১৯), পিতা: মো. মিজান মল্লিক;
মো. মিজান মল্লিক (৪২), পিতা: আব্দুল হক মল্লিক;
মো. সাইদুল ইসলাম (৩৬), পিতা: মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার;
এবং পারভীন বেগম (৩৫), স্বামী: মো. মিজান মল্লিক।
পুলিশ জানায়, আসামি রিয়াদ মল্লিকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাদের বসতঘরের সামনের গোয়াল ঘরের ভেতর খড়কুটার মধ্যে লাশটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
এ ঘটনায় নিহত শিশুটির দাদা আব্দুল হক মল্লিক বাদী হয়ে ভান্ডারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার বিকেলে পিরোজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন,
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশের সব ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুব দ্রুত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন,
শিশু হত্যার মতো জঘন্য অপরাধে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়টি জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হবে। এদিকে, হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তান হারিয়ে নিহত শিশুর পরিবারে চলছে আহাজারি।


আপনার মতামত লিখুন :