দেশের আট জেলায় ই-বেইলবন্ড উদ্বোধন করলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি ও শেরপুর জেলায় এ সেবা চালু হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় সচিবালয়ে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এ সেবা উদ্বোধন করেন তিনি।
জানা যায়, ই-বেইলবন্ড চালুর মাধ্যমে একজন বন্দিকে খুব দ্রুত মুক্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অনলাইনে বেইলবন্ড দেওয়ায় একজন আসামিকে এক ঘণ্টায় মুক্তি দেওয়া সম্ভব।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আসিফ নজরুল বলেন, এর আগে ১০ থেকে ১২ ধাপ পার হয়ে জামিন পেতে হতো, এতে মানুষের টাকা খরচ হতো এবং ভোগান্তি হতো। তাছাড়া এই প্রক্রিয়ায় কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েকদিন অবধি সময় লাগতো। অনলাইনে এই প্রক্রিয়া চালু হওয়াতে কে কখন সাইন করলেন তার রেকর্ড থাকবে। ফলে চাইলেও কেউ এটাকে দীর্ঘয়িত করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ইচ্ছা আছে ধাপে ধাপে আমরা ৬৪ জেলায় ই- বেইলবন্ড চালু করবো। নারায়ণগঞ্জ জেলায় চালু হওয়ার পর আরও আটটি জেলায় যখন চালু করছি, তখন এই প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ার আর কোনো কারণ থাকবে না। আমাদের আর ২০-২৫ দিন সময় আছে আমরা চেষ্টা করব আরও কয়েকটি জেলায় চালু করার। আমরা মনে করি আগামী ছয় মাসের মধ্যে এটা ৬৪ জেলায় চালু হয়ে যাবে।
পরবর্তী সরকার ই- বেইলবন্ড রাখবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পরবর্তী সরকার রাজনৈতিকভাবে সমস্যায় পরে এমন বিষয় ছাড়া সবকিছুই রাখবে। এটাতে রাজনৈতিকভাবে সমস্যায় পড়বে না। এটা তো এসেনশিয়াল কাজ, পরবর্তী যে সরকারি আসুক বাধা দেবে বলে আমরা মনে করি না।
বিচার ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে প্রচলিত বেইলবন্ড দাখিল পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে ই-বেইলবন্ড প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ বিচারপ্রার্থী, কারা প্রশাসন ও আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ে সহায়ক হবে বলে মনে করছে আইন মন্ত্রণালয়।
প্রথম ধাপে নারায়ণগঞ্জ জেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়ে এখন সফলভাবে চলছে।
কালের সমাজ/এসআর

