বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এ মন্তব্য করেন। এ সময় নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারকে তিনি অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতি ভাষণে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহত ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি জানান, ওই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত বা পঙ্গু হয়েছেন এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য সরকার ১ হাজার ২৪৩টি স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করেছে এবং গুরুতর আহত ১৩৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে।
শহীদদের স্মরণে দেশের ৬৪ জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং ঢাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে নেমে এসেছে এবং আগামী দিনে তা আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠনের কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে অতীতের অনিয়ম তদন্ত এবং সংস্কারের লক্ষ্যে পৃথক কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

