ঢাকা শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

পুলিশের ১৮ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর এক অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক | জুন ২০, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম পুলিশের ১৮ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর এক অভিযান

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাকরি দেয়া, ব্যবসায় বিনিয়োগ, গাড়ি কেনাবেচা এবং কুরবানির গরু কেনার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূলহোতা ও বিটিএল গ্রুপের সিইও মির্জা আবুল বাশার (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান থানা পুলিশ। জানা গেছে গ্রেফতার আবুল বাশার চিত্রনায়িকা ববি হকের স্বামী।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর আনুমানিক ১:৩০ ঘটিকায় টানা ১৮ ঘণ্টার এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে গুলশান-১ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গুলশান থানা সূত্রে জানা যায়, গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে আবুল বাশারের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একটি প্রতারণা মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেও চতুর আবুল বাশার বারবার স্থান পরিবর্তন করে পালিয়ে বেড়াতেন।

পরবর্তীতে গুলশান থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, আসামি গুলশান-১ এলাকার একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত রাতে সেখানে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার চেষ্টা শেষে শনিবার (২০ জুন) দুপুর দেড়টায় তাকে গ্রেপ্তার করাহয়।

জানা গেছে, আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে চাকরির প্রলোভন, আসামি মুক্ত করার আশ্বাস, ভুয়া ব্যবসায় বিনিয়োগ, গাড়ি ও পশুর হাটে প্রতারণাসহ বহু মাত্রিক প্রতারণা করে আসছিলেন। পুলিশের রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, এর আগেও প্রায় ১০-১১ মাস পূর্বে গুলশান থানা পুলিশের একটি অভিযানে আবুল বাশারের হেফাজত থেকে দুটি চোরাই ও প্রতারণামূলক গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছিল, যা নিয়ে পরবর্তীতে ভাটারা থানায় মামলা হয়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, বাশার তার ভুক্তভোগীদের মিথ্যা প্রলোভন দেখাতেন। তিনি দেশজুড়ে ব্যবসায়ীদের নিজস্ব ডিলারশিপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অগ্রিম টাকা গ্রহণ করতেন এবং পরে অজানা স্থানে পালিয়ে যেতেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার শিকারদের মধ্যে সেনা, পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা রয়েছেন।

বাথরুমের সিলিং থেকে গ্রেফতার হলেন নায়িকা ববির কথিত স্বামী | জাতীয় অর্থনীতি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাশারের বাড়ি পটুয়াখালীর ইসলামাবাদ উপজেলার পশ্চিম আউলিয়াপুরে। গ্রেপ্তারের পর তার প্রতারণার নানা তথ্য প্রকাশ পায়। অনলাইনে পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে ফ্রিজ, এসি, ল্যাপটপ, কম্পিউটার সংগ্রহ করলেও তিনি বিক্রেতাকে টাকা পরিশোধ করতেন না। এছাড়া তিনি ব্যাংকের চেক দিয়েও প্রতারণা চালাতেন।

অভিযানকারীরা জানিয়েছেন, বাশারের প্রতারণার জন্য একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করত। তার অফিসের একাউন্টস ও মার্কেটিং কর্মীরা ব্যবসায়ীদের বিভ্রান্ত করে পণ্য বা ডিলারশিপের জন্য অগ্রিম নেওয়ার দায়িত্বে ছিল। পূর্বে খিলক্ষেত থানায় গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে আবারও একই কৌশলে প্রতারণা শুরু করেছিলেন।

বাশারের সঙ্গে চিত্রনায়িকা ববির সম্পর্ক নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। বাশার নিজেকে ববি’র স্বামী ও ব্যবসায়িক অংশীদার দাবি করলেও নায়িকা তা অস্বীকার করেছেন। তবে একই ছাদের নিচে তাদের উপস্থিতির তথ্যও পাওয়া গেছে।

ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, “মির্জা আবুল বাশার একজন পেশাদার প্রতারক। জনগণকে অনুরোধ করছি, চটকদার বিজ্ঞাপন বা অজানা ডিলারশিপে সহজে নগদ টাকা দেবেন না। আমাদের থানা এলাকায় কোনো ধরনের প্রতারণা আমি হতে দেবো না।”

উল্লেখ্য, বনানী অফিস সংক্রান্ত একটি মামলায় ব্যবসায়ী পলাশ চন্দ্র দাশ অভিযোগ করেছেন, বাশারের অফিসে জোরপূর্বক এক লাখ ৮৫ হাজার টাকার চাইনিজ টেবিল রাখা হয়। ওই মামলায় আরও সাতজন ভুক্তভোগী নাম অন্তর্ভুক্ত।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!