ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

পিলখানা ট্র্যাজেডি দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৫:৪২ এএম পিলখানা ট্র্যাজেডি দিবস আজ

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। বিডিআর বিদ্রোহ ও পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭তম বার্ষিকী  আজ। ২০০৯ সালের এই দিনে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবি) একদল বিপথগামী সদস্য পিলখানায় ভয়াবহ বিদ্রোহে জড়ায়। দুই দিনব্যাপী ওই ঘটনায় বাহিনীর মহাপরিচালকসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা, নারী ও শিশুসহ আরও ১৭ জন নৃশংসভাবে নিহত হন।

২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত ওই ঘটনায় অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নির্মম হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্রোহ দমনের পর বাহিনীর নিজস্ব আইনে বিচার শুরু হয়। পরবর্তীতে হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমে নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতের রায়ে শতাধিক আসামির মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়।

নিম্ন আদালতের রায়ে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আপিলে ২০১৭ সালে হাই কোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, আটজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং চারজনকে খালাস দেন। বিভিন্ন ধাপে আরও অনেকে সাজা ভোগ করেছেন বা খালাস পেয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আদালতের আদেশে ২৫০ জন বিডিআর সদস্য জামিন পান, যাদের মধ্যে ১৭৮ জন মুক্তি লাভ করেন।

পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পর পুরো বাহিনী গভীর সংকটে পড়লেও পুনর্গঠন ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে বিজিবি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিজিবি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

পুনঃতদন্ত ও কমিশনের প্রতিবেদন

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত শুরু করে। এ লক্ষ্যে গঠন করা হয় জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের দাবি, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনেক অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর মিলবে এবং ভবিষ্যতের জন্য তা একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।

কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিদ্রোহের পেছনে বিডিআরের ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভ, অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপ, কাঠামোগত অসন্তোষসহ নানা কারণ ছিল। পাশাপাশি সে সময়কার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বহিরাগত প্রভাবের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য অনেক বিষয় এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট। তিনি শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আজকের কর্মসূচি

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ দিনটি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় বনানীর সামরিক কবরস্থানে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্র সচিব ও বিজিবি মহাপরিচালক। বিকেলে ক্যান্টনমেন্টে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে।

Side banner
Link copied!