পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনের রাস্তায় সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণসহ বিভিন্ন থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনী সিদ্ধান্ত জোরপূর্বক পরিবর্তন এবং বিশেষ ‘সেটআপ’ তৈরি করে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এতে জাতীয় নির্বাচনেও বড় ধরনের কারচুপির নীলনকশা বাস্তবায়নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে বলছেন তারা।
এর আগে রোববার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইসি কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা অবস্থান নেন। কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের কমিটির কয়েক হাজার নেতা–কর্মী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
ওইদিন নির্বাচন কমিশন ভবনে কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছাত্রদলের সভাপতি ছাড়াও ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান। বৈঠকে তিনটি ইস্যু নিয়ে ছাত্রদলের দাবি কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়। কমিশন আশ্বস্ত করেছে যে, তারা এসব বিষয় যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করবে।
ছাত্রদলের উত্থাপিত তিনটি অভিযোগ হচ্ছে- ১. পোস্টাল ব্যালটসংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচনপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।
কালের সমাজ/এসআর

