বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অঙ্গীকার করে বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বানানোর কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে ।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে এই অঙ্গীকার করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী গঠনের কাজ দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে। যার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এখানকার ব্যবসা বাণিজ্য এখান থেকেই পরিচালিত হবে।
ইপিজেডের সংখ্যা বাড়ানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামসহ দেশের জলবদ্ধতা নিরসন করা হবে সারা দেশে। খাল খনন কর্মসূচি আবারও শুরু করবে বিএনপি। যেন কৃষকদের উপকারের পাশাপাশি জলবদ্ধতা দূর হয়।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে সমালোচনা করি কিংবা দোষ ধরি, তাহলে মানুষের উপকার হবে না। এসবে দেশের মানুষের পেট ভরবে না। উই হ্যাবে প্ল্যান, আমাদের কাছে পরিকল্পনা আছে দেশকে নিয়ে। দেশের তরুণ সমাজ চায় কর্মসংস্থান। সবাই নিরাপদ পরিবেশ চায়, ব্যাবসা বাণিজ্য করতে চায়।
বিএনপি শিক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যেন পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থান তৈরি হয়। গ্রামের প্রতিটি মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দিতে চাই। এজন্য সারা দেশে ১ লাখ হেলথকেয়ার সেন্টার গড়ে তুলবে বিএনপি। যেন মা-বোনদের উপকার হয়।

দেশের নারীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নারীদের কর্মসংস্থানের বাইরে রেখে দেশের উন্নয়ন হবে না। তাই তাদের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য।
কৃষির উৎপাদন বাড়াতে হলে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষক ভাই, কৃষানী বোনদের কাছে কৃষি কার্ড পৌছে দিতে চাই। যেন তারা সহজে ঋণ সুবিধার পাশাপাশি আর্থিক স্বাবলম্বী হতে পারে।

বিএনপিকে যদি তার পরিকল্পনা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এ কারণে জনগণের সমর্থন লাগবে। ভোট দিতে হবে।
সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয়ে খুব কড়াকড়িভাবে নজর দেয়ার কথা জানান তিনি। বলেন, একটি হলো মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারে। কেউ অনিয়ম করে তাদের বিরুদ্ধে অতীতে যেভাবে ব্যবস্থা নিয়েছিল বিএনপি সরকার, সেভাবে আবারও করবে। দ্বিতীয়টি- দুর্নীতির টুটি চেপে ধরা হবে। অতীতে দেশ পরিচালনার সময় বিএনপি যেভাবে দুর্নীতি দমন করেছে, নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে সেইভাবে আবারও দুর্নীতিমুক্ত করতে কাজ করবে বিএনপি। আইন সবার জন্য সমান, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না।

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, একটি বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। গত ১৫ বছরে কেউ ভোট দিতে পারেনি।
কালের সমাজ/এসআর

