এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় বিউটি অফ ঝিনাইগাতী, প্রশাখা, আপন শিক্ষা পরিবার, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম, গ্রিন ইনিশিয়েটিভ সিংগাবরুনাসহ একাধিক পরিবেশভিত্তিক সংগঠন। স্থানীয় তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি একটি সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগে রূপ নেয়।
শুষ্ক মৌসুমে গারো পাহাড়ের বনভূমি অগ্নিকাণ্ডের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। গাছের পাতা ঝরে গিয়ে বনভূমি দাহ্য হয়ে ওঠে, মাটির আর্দ্রতা কমে যায় এবং ঝর্ণা ও জলাধার শুকিয়ে পড়ে। এই অবস্থায় অসচেতনতা বা দুষ্কৃতিকারীদের আগুন লাগানোর ঘটনা দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয় এবং বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি করে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে নালিতাবাড়ীর পানিহাটা চার্চ এলাকা থেকে ব্যানার স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়ে পরে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী সড়কের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বিস্তৃত করা হয়; যেখানে আগুন লাগার আশঙ্কা বেশি।
বিউটি অফ ঝিনাইগাতীর সভাপতি পারভেজ মিয়া বলেন, “অসচেতনভাবে ফেলা সিগারেটের আগুন বা ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম মধুটিলার সভাপতি আরফান আলী বলেন, “বনে আগুন লাগলে খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙে পড়ে। খাদ্যের অভাবে হাতিসহ বড় প্রাণীরা লোকালয়ে চলে আসে, ফলে মানুষ-হাতি সংঘাত বেড়ে যায়।
পরিবেশ গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজের প্রতিনিধি শাহরিয়ার হোসেন শাহপরান বলেন, “বন আগুন পুরো বাস্তুতন্ত্রের ওপর আঘাত হানে। মাটির অণুজীব থেকে শুরু করে বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী—সবাই এর ক্ষতির শিকার হয়, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত মানুষের জীবনেও পড়ে।
পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য ওয়াসিম মিয়া কর্মসূচিটিকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, “আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী লিয়াকত হোসেন বলেন, আমাদের বন আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। প্রতি বছর একই সমস্যা দেখতে চাই না।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বনাঞ্চলে আগুনের প্রভাব তাৎক্ষণিক ক্ষতির বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে জীববৈচিত্র্য, মাটির উর্বরতা, জলচক্র ও জলবায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গারো পাহাড়ের মতো সংবেদনশীল ইকোসিস্টেমে এর ক্ষতি আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
সচেতনতামূলক এই উদ্যোগ বন রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরছে।
কালের সমাজ/ কে.পি

