কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রী ফারজানা আক্তারের ওপর হামলা, মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবক জুয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিনের হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি তিন সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
অভিযুক্ত জুয়েল মিয়া উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের নাছিরাকান্দা গ্রামের মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায় , জুয়েল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ফারজানাকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গভীর রাতে তার ঘরের আশপাশে ঘোরাফেরা, দরজায় টোকা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। স্থানীয়দের দাবি, একই ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন আরও কয়েকজন নারী।
সম্প্রতি রাত ৩টার দিকে জুয়েল ফারজানার ঘরের সামনে চিৎকার করে মিথ্যা অপবাদ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে এলাকাবাসী ছুটে এলেও ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী ফারজানা আক্তার বলেন,“সে আমাকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিত। আমি রাজি না হওয়ায় বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করত। তার অত্যাচারে আমি সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। আমি এর বিচার চাই।”
ঘটনাটি গত রবিবার ১২ এপ্রিল ২০২৬ ঘটলেও প্রতিকার না পেয়ে তিনি কুলিয়ারচর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, জুয়েলের পরিবারের দাবি—ঘটনার দিন তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ফারজানার স্বজনরা জুয়েলের বাড়িতে গিয়ে দরজা ভেঙে তাকে মারধর করেন। তাদের মতে, ফারজানার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। এ ঘটনায় তারা ঘটনার ঐদিনই কুলিয়ারচর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, দুই পক্ষ থেকেই অভিযোগ পেয়েছি অভিযোগ দুটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
কালের সমাজ/কে.পি

