উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহানকে ঘিরে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার উপজেলার বিনসাড়া বাজারে অবস্থিত মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় অতিরিক্ত দামে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়।
জব্দ করা পেট্রোল পরবর্তীতে খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, জব্দ হওয়া দুই ড্রামের মধ্যে এক ড্রাম পেট্রোল সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রতি এক লিটার করে বিক্রি করা হলেও অপর ড্রামটি রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায়।
খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শাহাদত হোসেন জানান, ইউএনও নিজেই দুই ড্রাম পেট্রোল সেখানে নিয়ে আসেন। এক ড্রাম বিক্রি করা হয়, আরেক ড্রাম মান্নাননগর মোটর শ্রমিক ফিলিং স্টেশনে বিক্রির কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেও একই ধরনের দাবি শোনা যায়, যেখানে বলা হয়—এক ড্রাম পেট্রোল বিক্রি হলেও অপরটি ইউএনও নিয়ে যান।
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহ আলম মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, জরিমানার রশিদ দেওয়া হলেও জব্দ করা পেট্রোলের কোনো কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। এমনকি রাতে খালি ড্রাম ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ইউএনও নুসরাত জাহান। তিনি জানান, জব্দ হওয়া সব পেট্রোল নিয়ম অনুযায়ী খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে জনপ্রতি এক লিটার করে বিক্রি করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন মহল।
কালের সমাজ/ কে.পি

