ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত অর্থোপেডিক সার্জন ডা. মোঃ সোলায়মান দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। তিনি সবসময় রোগীদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছেন এবং বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।চিকিৎসক মহলের বাইরে সাধারণ মানুষের কাছেও ডা. সোলায়মানের সুনাম রয়েছে।
তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে কর্মরত থাকাকালীন অসংখ্য রোগীকে সেবা দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকলেও প্রতিদিন বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে রোগী দেখেন। সেখানে তিনি অসহায়, গরিব ও দরিদ্র রোগীদের স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা প্রদান করছেন।
বিশেষ করে হাড়ভাঙা রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
ডা. সোলায়মান বলেন, কোনো হাড় ভাঙলেই সঙ্গে সঙ্গে অপারেশন প্রয়োজন হয় এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। অনেক ক্ষেত্রে প্লাস্টার ও সঠিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি দালালচক্র বিভিন্ন সময় রোগীদের বিভ্রান্ত করে সদর হাসপাতাল থেকে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিতে চেষ্টা করে। এসব দালাল রোগীদের ভুল বুঝিয়ে তাৎক্ষণিক অপারেশনের ভয় দেখায়, যা অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়।
ডা. সোলায়মান রোগীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রথমে সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিন। প্রয়োজন হলে প্লাস্টার করুন এবং পরে আউটডোরে অর্থোপেডিক ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সাধারণ হাড় ভাঙার অপারেশন সদর হাসপাতালেই সম্ভব।
তিনি আরও জানান, হাড়ভাঙার অপারেশন ২৮ দিনের মধ্যে করা উত্তম। নির্ধারিত সময়ের পরে অপারেশন করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে বোন গ্রাফটের প্রয়োজন হতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, ডা. সোলায়মানের মতো মানবিক চিকিৎসকের সংখ্যা খুবই কম। তিনি শুধু চিকিৎসা দেন না,রোগীদের সঠিক দিকনির্দেশনাও প্রদান করেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
চিকিৎসা খাতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে এবং সরকারি হাসপাতালের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ডা. সোলায়মানের মতো উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন মহল।
কালের সমাজ/এসআর

