ঢাকা বুধবার, ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

লামায় স্কুলের সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে ৬ বছরের শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ

কালের সমাজ ডেস্ক | এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৯:২০ পিএম লামায় স্কুলের সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে ৬ বছরের শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ

নির্যাতনের শিকার রেশমি ত্রিপুরা (৬) বোচাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী এবং নিমন্দ্র মেম্বার পাড়ার রজনী ত্রিপুরার মেয়ে।স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানায়, ক্লাস চলাকালীন প্রথম শ্রেণির ছাত্রী রেশমিকে ব্ল্যাকবোর্ডে বর্ণমালা লিখতে বলেন। লিখতে না পারায় তাকে  সঙ্গে সঙ্গে জোরে চড়-থাপ্পড় মারেন শিক্ষক। শিশুটির কান্নার শব্দ যাথে বের না হয় সে জন্য মুখ চেপে ধরেন এবং প্রমাণ মুছে দিতে সিসিটিভি ক্যামরা বন্ধ করে দেন। এতে এক পর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

পরে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে সহপাঠীরা বাসায় নিয়ে গিয়ে বিষয়টি শিশুটির মাকে জানায়।এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে অফিস ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অপর দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় তার মা মেয়েকে স্কুলের নিয়ে গিয়ে আতর্নাদ করে এভাবে মেয়েকে মারধরের কারন জানতে চান। 

কিন্তু স্কুলটির প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা কিছু না বলে বসে থাকতে দেখা যায়। নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর মা রজনী ত্রিপুরা অভিযোগ করে বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই জুমে কাজ করছি। মেয়ের অজ্ঞান হওয়ার খবর পেয়ে ছুটে আসি বাড়িতে। পরে মেয়েকে নিয়ে স্কুলের ছুটে যান গ্রামবাসী।তিনি আরও বলেন, বর্ণমালা লিখতে না পারায় মেয়েকে চড় মেরে অজ্ঞান করে ফেলেন শিক্ষক ফরিদ। 

আর মারার সময় সিসিটিভি বন্ধ করে দিয়েছেন। ছোট বাচ্চাদের শিক্ষকরা এমন মারলে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে কীভাবে পাঠাবে আমরা।অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফরিদুল আলমের সঙ্গে এ বিষয়ে জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করার কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস প্রতিবেদক‍‍`কে বলেন, ছাত্রীকে মারধরের ঘটনা পরিবারের ভুক্তভোগীরা বিষয়টি অবগত করছে। 

বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে শিক্ষক ফরিদুল আলম দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরতন চাকমা প্রতিবেদক‍‍`কে বলেন, শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি আপনারা যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন আমরাও সেভাবেই শুনেছি। এখনো কোনো অভিযোগ পায়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
 

 

কালের সমাজ/ কে.পি

Link copied!