হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যেতেন রাজা-বাদশারা। সেই রাজপ্রথা আর রাজকীয়তা এখন দূর অতীত। তবে কিছু এলাকায় শখের বশে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার খবর শোনা যায়। শশুরের ইচ্ছেতেই হাতির পিঠে চড়ে বর এসেছেন বিয়ে করতে। আর কনে শশুড় বাড়িতে গেলেন ঘোড়ার গাড়িতে। এমনই ঘটনা ঘটেছে জয়পুরহাটে। ঘটনাটি পুরো জেলায় সাড়া ফেলে দিয়েছে। কারণ বর্তমান সময়ে এই অঞ্চলে এমন ঘটনার কথা শুনেননি স্থানীয়রা।
বরের নাম ফারহান ফয়সাল (২৮)। তিনি সদর উপজেলার চকমোহন গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। কনের নাম ফারহানা আক্তার (২৬)। সে সদর উপজেলার পশ্চিম পুরানাপৈল সোনার পাড়া গ্রামের দুলাল হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, ফারহান ফয়সালের শশুর দুলাল হোসেনের শখ ছিলো ছোট মেয়ে ফারহানা আক্তারের বিয়ে দেওয়ার সময় তার জামাই হাতির পিঠে চড়ে আসবে বিয়ে করতে। মেয়ে যাবে ঘোড়ার গাড়িতে। শশুরের শখ পূরুন করতে বৃহস্পতিবার নিজ বাড়ি থেকে হাতির পিঠে চড়ে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শশুড় বাড়িতে আসেন। এসময় রাস্তার দুই পার্শে হাতি ও বরকে দেখার জন্য উৎসুক জনতা ভীড় জমায়।
এদিকে হাতির পিঠে চড়ে বর আসায় কনের এলাকাতেও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। হাতির পিঠে চড়ে বর ও বরযাত্রীদের গাড়িবহরের সঙ্গে বিকেলের দিকে পশ্চিম পুরানাপৈল গ্রামে কনের বাড়িতে পৌঁছায়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরের নিজ বাড়িতে কনেকে নিয়ে রওনা দেন ঘোড়ার গাড়িতে।
কনে ফারহানা আক্তার বলেন, আমার বিয়েতে হাতিতে চড়ে বর এসেছে, আমি শশুর বাড়িতে ফিরলাম ঘোড়ার গাড়িতে এটি আমার জীবনের অন্যরকম অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
বর ফারহান ফয়সাল বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার বাবা হাতির হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার গল্প শুনাতেন। সেই গল্প আজ সত্যি হলো। আমি খুব খুশি।
বরের বাবা ফজলুর রহমান বলেন, ফারহান ফয়সাল তার শশুরের শখ তার প্রিয় জামাই হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাবেন। আর মেয়ে ফিরবেন ঘোড়ার গাড়িতে। সেই ইচ্ছা পূরণ করতে এই আয়োজন। প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকায় হাতি ও ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া করে আনা হয়।
কনের বাবা দুলাল হোসেন বলেন, আমার ইচ্ছে ছিলো ছোট মেয়ের বিয়েতে ব্যতিক্রম আয়োজন করবো। সেই ইচ্ছে থেকেই আজকের আয়োজন। সংস্কৃতির সেই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনটি করতে পেরেছি। বিয়েতে দুই পরিবারে আত্মীয়-স্বজন সবাই অনেক মজা ও আনন্দ করেছেন। সবাই নব দম্পতিকে দোয়া করবেন ওরা যেন সুখে-শান্তিতে থাকে।
কালের সমাজ/কে.পি

