ঢাকা শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

ঈশ্বরগঞ্জে চোরের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করল এলাকাবাসী

জেলা প্রতিনিধি,ময়মনসিংহ | এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম ঈশ্বরগঞ্জে চোরের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করল এলাকাবাসী

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে একের পর এক চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ ছিলেন গ্রামবাসী। আগেও একাধিকবার চোরের পরিবারকে বিষয়টি অবগতির করা হলেও  তাতে কাজ হয়নি। সম্প্রতি এক বাড়ির টিউবওয়েল চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে চোর চক্রের এক সদস্য। পরে তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী। 

এভাবে বারবার চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে ফোঁসে ওঠে স্থানীয়রা। এরই জের ধরে গতকাল (১৪ এপ্রিল) মঙ্গলবার সকালে ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে চুরের বাড়িঘর ভাঙচুর করে এলাকার স্বরস্তরের জনতা। পরে একই দিন বিকালে চুরি নির্মূলে  করণীয় ঠিক করতে এলাকার যুব সমাজ বৈঠকে বসেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের ভাসা গোকলনগর গ্রামে। একই গ্রামের মাজহারুল ইসলাম (৩২) নামের এক যুবক আশেপাশের কয়েক গ্রামে মানুষের বাড়িঘর ও ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন জিনিসপত্র  চুরি করে বেড়াতো। সর্বশেষ গত ১১ এপ্রিল দিবাগত রাতে পার্শ্ববর্তী সাধরগোলা (পশ্চিম পাড়া)  গ্রামের সিএনজি চালক দ্বীন ইসলামের বাড়িতে টিউবওয়েল চুরি করতে গেলে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা।  বর্তমানে সে জেলহাজতে আছে। কিন্তু এলাকার লোকজন চায় চুরি নির্মূলে স্থায়ী সমাধান।  এরই প্রেক্ষিতে গত (১৪ এপ্রিল) মঙ্গলবার 

বিকালে ভাসা গোকলনগর গ্রামের যুবক আমিনুল হক  সজিব,  আশিকুর  খান  মিন্টু ,  হাসিবুল  হাসান  পরাণ, নাইম ইসলাম  ও মনিরুজামান হুজাইফার উদ্যোগে আয়োজিত যুব সমাজের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় গ্রামে আর কোনভাবেই চুরি হতে দেওয়া যাবে না। চোরের উৎপাত থেকে রেহাই পেতে বৈঠকের  সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা চোরের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে ফের জানিয়ে আসে এলাকায় যেন মাজহারুল আর কোন চুরির  ঘটনা না ঘটায়। যদি সে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ফের চুরির কাজে লিপ্ত হয় তাহলে এলাকাবাসী কঠিন পদক্ষেপ নিবে।

চোর নির্মুল বৈঠকের উদ্যোক্তা হাসিবুল  হাসান  পরাণ  ও মনিরুজামান হুজাইফা বলেন,আমাদের ভাসা গোকলনগর  গ্রামের মাজহারুল ও তার সঙ্গে বাহির থেকে আসা কিছু লোক দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে একের পর এক  চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিভিন্ন সময়ে এই পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। গত ১১ এপ্রিল  রাতে পার্শ্ববর্তী  সাধরগোলা গ্রামের দ্বীন ইসলামের বাড়িতে টিউবওয়েল চুরির সময়ে মাজহারুলকে  আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা আরও তিনজন পালিয়ে যায়। এতে আমাদের গ্রামের চরম বদনাম হয়েছে এবং মাজহারুলের চুরির উৎপাতে অতিষ্ঠ আশেপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ। গতকাল  সকালে এ নিয়ে ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী তার বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে সত্য। যেন তার পরিবার যেন মাজহারুলকে নিয়ন্ত্রণ করে।

পরাণ ও হুযাইফা আরও বলেন, সকালে চোরের বাড়িঘর ভাঙচুরের বিষয়টি জানতে পেরে আমরা গতকাল বিকালে এলাকার যুব সমাজকে নিয়ে  বৈঠকে বসি। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় আমরা কারও বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের পক্ষে নই।  যদিও বিক্ষিপ্ত জনতা তা করেছে। 

তাই বৈঠকে আমরা  সিদ্ধান্ত নিই  মাজহারুলের পরিবারের কাছে গিয়ে তাদের আবারও বোঝাব, যেন মাজহারুলকে  তাঁরা কন্ট্রোল করে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা মাজহারুলের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে বলি- ভবিষ্যতে  এলাকায় যেন মাজহারুল আর কোন চুরির ঘটনা না ঘটায়। তাকে সংশোধনের জন্য পরিবার যেন যথাযথ পদক্ষেপ নেয়। তাদের আবার সতর্ক বলা হয়েছে, মাজহারুল যদি ভবিষ্যতে আর কোন চুরির ঘটনা করে তাহলে এলাকার যুব সমাজকে সাথে নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ  নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম বলেন, কিছুদিন আগে চুরির ঘটনায়অভিযুক্ত মাজহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। চোরের বাড়িঘর ভাঙচুরের বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি।

 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!