রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় চলতি মৌসুমে কৃষিপণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যপতন দেখা দিয়েছে। গত মৌসুমে যেসব ফসল ও সবজি চড়া দামে বিক্রি হয়েছিল, এবার সেগুলোর বেশিরভাগই অর্ধেকেরও কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ফসল উৎপাদনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার আলু , পিয়াজ, রসুন বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে এবার অনেক কম দামে বিক্রী হচ্ছে। কতিপয় মানুষ পাড়া-মহল্লায় ভ্যানে করে মাইকিং করে এগুলো অতি সস্তায় বিক্রী করে বেড়াচ্ছেন। অনুরুপ হারে অন্যান্য সবজি যেমন লাউ, পুঁইশাক, কাঠুয়া, চালকুমড়া এবং কচুর বীজ-সহ বিভিন্ন সবজির দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে অনেক কমে গেছে।
কৃষকরা বলছেন, তাঁদের উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে লোকসানের মধ্যদিয়ে উৎপাদিত পন্য বিক্রী করছেন। তবে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকা এবং ক্রেতা কম থাকাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে শুধু সবজিই নয়, অন্যান্য ফসলের বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে গমের দাম গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে প্রায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও মশুর, খেসারি,ছোলা,সরিষা ও আদা-সহ সকল পন্যের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
অপরদিকে কৃষি উপকরণের দাম কমার পরিবর্তে বরং বেড়েছে। প্রতি মণ সার ও কীটনাশকের দাম গড়ে তিনশত থেকে পাঁচ’শত টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। এর ফলে তারা তাদের উৎপাদিত ফসল ও সবজি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন এবং হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারমূল্যের কোনো সামঞ্জস্য নেই। তারা বলছেন, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন অনেকেই।
এদিকে কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে সরকারি ভাবে সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।বর্তমান পরিস্থিতিতে ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘার কৃষকরা মারাত্মক ভাবে আর্থিক চাপে পড়েছেন।
তবে ব্যবসায়ীদের দাবি কৃষকদের কতা চিন্তা করে খুবদ্রুত কার্যকর পর্যায়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি উপকরণে সহায়তা প্রদান না করা হলে কৃষকদের এই সংকট আরও গভীর হতে পারে, যা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।তাঁরা এ বিষয়ে সরকারের উর্ধতন কর্তপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান জানান, যে কোনো ফসল এবং সবজি বিক্রির ক্ষেত্রে বাজারের দর্পণ হয়ে থাকে। এটা আশা করা যায় খুব শীঘ্রই ঠিক হয়ে যাবে। তিনি বলেন, কীটনাশক এবং সারের দাম কমানোর বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কৃষি বিভাগের কথোপকথন চলছে। আমরা আশা করছি, এগুলো খুব শীঘ্রই স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে।
কালের সমাজ/কে.পি

