সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বারাত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ইকোর উদ্যোগে গতকাল দিনব্যাপী ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প করা হয়েছে। সেখানে শতাধিক দরিদ্র নারী ও পুরুষ চক্ষু রোগী তাদের চোখের ফ্রি-চিকিৎসা ও ওষুধ নিয়েছেন। একই দিন এদের মধ্যে থেকে ১২ জনকে সম্পুর্ন বিনা মুল্যে ছানি অপারেশন করে আমেরিকান লেন্স লাগানো হবে।
উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের বারাত গ্রামের সোবহান গাজী (৫৮) ও আলেয়া বেগম (৬০) জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে ভালো চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। তারা আরো জানান, দুইদিন আগে গ্রামে মাইকে প্রচারে জানতে পারেন বারাত গ্রামে ইকো ইমদাদ-সিতারা ফাউন্ডেশন হেলথ সেন্টারে ইকোর উদ্যোগে ফ্রি চোখের রোগী দেখা হবে। সেখান থেকে বিসামূল্য চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়েছি। এজন্য ইকোর কর্তৃপক্ষকে তারা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ইকো যেন এই মহতী উদ্যোগ অব্যাহত রাখে। তাহলে সমাজের দরিদ্র মানুষের উপকৃত হবেন।
একই উপজেলার কাজিরডাঙ্গা গ্রামের বৃদ্ধা ছবিরন (৬৫) ও বারাত গ্রামের হাসেম আলী (৭২) জানান, তারা অনেকদিন ধরে চোখেন ছানি সমস্যায় ভুগছিলেন। গতকাল ইকোর ফ্রি চক্ষু ক্যাম্পে গিয়ে চিকিৎসা ও ওষুধ নেন এবং একই সাথে তারা বিনামুল্যে চোখের ছানি অপারশনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।
শুক্রবার দিনব্যাপী জেলার তালা উপজেলার বারাত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ইকোর উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ইকোর আয়োজনে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা পেয়ে খুশি এসব হতদরিদ্র পরিবারেরা।
আয়োজকরা জানান, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে এখানে শতাধিক চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে সেবা ও ওষুধ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে থেকে বাছাই করা ১২ জন রোগীকে পরবর্তীতে চোখের ছানি অপারেশন ও লেন্স স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রাথমিক পর্বে রোগীদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, পরামর্শপত্র, ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।
ইকোর প্রজেক্ট অফিসার আবদুল কাদের জানান, ইকো সমাজে পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্রদের সচেতন করতে এবং আর্থসামাজিকভাবে স্বচ্ছল করতে সংগঠনটি কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বারাত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী ফ্রি চক্ষু মেডিকেল ক্যাম্পে এলাকার শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা বিনামুল্যে চোখের গ্রহন করেন। তিনি বলেন, এছাড়াও ইকো ইমদাদ-সিতারা ফাউন্ডেশন হেলথ সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে প্রতিদিন দরিদ্র রোগীদের ৫০ টাকার কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। একজন রোগী এই কার্ডের মাধ্যমে ৫ বার চিকিৎসা নিতে পারবেন।
এই হেলথ সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। দরিদ্র মানুষ এখান থেকে সরকারি হাসপাতালের চেয়েও কম মূল্য পরীক্ষা করাতে পারছেন।
পাশাপাশি সমাজের হতদরিদ্র মানুষকে প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে যশোরের চাঁচড়াস্থ ইকো ট্রেনিং সেন্টার কাজ করছে। একই সাথে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে ইকো ইনস্টিটিউট। এই প্রতিষ্ঠানে এতিম শিশু ও হতদরিদ্ররা বিনামূল্য থাকা-খাওয়াসহ লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। সংস্থাটি দেশের বিভিন্ন জেলায় ফ্রি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যায়নরত মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চতর শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের মতো কার্যক্রম করে আসছে।
কালের সমাজ/কে.পি

