ঢাকা শনিবার, ০২ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্পোর্টস ডেস্ক | মে ২, ২০২৬, ০৭:২০ পিএম ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে এক উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। গ্যালারিভর্তি দর্শক, মাঠজুড়ে খুদে ক্রীড়াবিদদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা এবং নিরাপত্তার কড়াকড়িতে অন্যদিনের তুলনায় ভিন্ন রূপ নেয় স্টেডিয়ামটি।

শনিবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে ভেন্যুতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা স্টেডিয়াম থেকেও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিল অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোররা।

শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ নামটি বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের পরিচিত। ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি একসময় টেলিভিশনভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। দীর্ঘ বিরতির পর এবার ক্রীড়াভিত্তিক নতুন রূপে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ হিসেবে যাত্রা শুরু করল এটি।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন খেলার ৩২ জন খ্যাতিমান ক্রীড়াবিদ উপস্থিত ছিলেন, যারা এই আয়োজনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি ও অন্যান্য ডিসিপ্লিনের এসব খেলোয়াড় নতুন প্রজন্মকে উৎসাহ দিতে এক মঞ্চে আসেন।

সরকারের পক্ষ থেকে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেওয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই আয়োজনকে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা চালু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ক্রীড়াক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকার বাইরে থেকে এই আয়োজন শুরু করা হয়েছে।

১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে ৮টি জনপ্রিয় খেলায় এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে জেলা ও বিভাগীয় ধাপ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্চলিক পর্যায়ের খেলা চলবে ১৩ থেকে ২২ মে পর্যন্ত।

সারা দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে এই প্রতিযোগিতা পরিচালিত হচ্ছে। অঞ্চলগুলো হলো—ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ।

প্রতিযোগিতার ধরন অনুযায়ী দলীয় খেলাগুলো নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে, দাবায় থাকবে সুইস লিগ পদ্ধতি। এছাড়া অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে বাছাই পর্ব শেষে ফাইনালের মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে।

রেজিস্ট্রেশনের স্বল্প সময়সীমা থাকা সত্ত্বেও সারা দেশ থেকে বিপুল সাড়া মিলেছে। ১২ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন অংশগ্রহণকারী নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৯ জন ছেলে এবং ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন মেয়ে। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি এবং ময়মনসিংহে সবচেয়ে কম নিবন্ধন হয়েছে।

 


কালের সমাজ/কে.পি
 

Link copied!