ঢাকা সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নাঙ্গলকোটে বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা | মে ১৭, ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম নাঙ্গলকোটে বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে এক বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে  নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত ওই শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষকের নাম সাব্বির আহমদ। তিনি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও জনতরী গ্রামের মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনের ছেলে এবং নাঙ্গলকোট উপজেলার শ্রীহাস্য ছিদ্দিক আলী মোয়াল্লেম শাহ হাফেজিয়া নূরানী মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী বাক প্রতিবন্ধী তরুণী দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদ্রাসায় রান্নার কাজ করে আসছিলেন। সেখানে রান্নার কাজের সুবাদে শিক্ষক সাব্বির আহমদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তরুণীর শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার সুযোগ নিয়ে ওই শিক্ষক মাদ্রাসার ভেতরেই তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাতের ক্ষতিকর ওষুধ খাওয়ানো হয়।

পরবর্তীতে জোরপূর্বক ওষুধ সেবনের কারণে তরুণীর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে, মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং এই অবস্থায় তাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। এরপর পরিবারের লোকজন গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বাক প্রতিবন্ধী তরুণী তার নিজের ইশারায় অভিযুক্ত শিক্ষক সাব্বির আহমদকে ধর্ষক হিসেবে শনাক্ত করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষককে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে নিজেদের হেফাজতে নেয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় একটি সুনির্দিষ্ট ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ভুক্তভোগী তরুণীর প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে

 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!