ঢাকা মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

এমপি সেলিমুজ্জামানকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান গোপালগঞ্জবাসী

জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ | মে ১২, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম এমপি সেলিমুজ্জামানকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান গোপালগঞ্জবাসী

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনায় এসেছে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সম্প্রসারণ। সরকারের পক্ষ থেকে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর ঘোষণা আসার পর ফরিদপুর বিভাগসহ গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে গোপালগঞ্জ-১ (কাশিয়ানী-মুকসুদপুর) আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিমের নাম। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় তিনি স্থান পেতে পারেন—এমন প্রত্যাশা ও জল্পনা এখন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

সেলিমুজ্জামান সেলিমকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের মতে, সেলিমুজ্জামান সেলিম একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ এবং সততার প্রতীক। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ জেলায় সর্বোচ্চ ভোটে পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্য এবং তাঁর জনপ্রিয়তা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা, মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে সেলিমুজ্জামান সেলিম সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে সক্ষম হবেন। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ, নিষ্ঠা ও তৃণমূলভিত্তিক নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।

স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় ও মানবিক ভূমিকার কারণে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি আজ আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সেলিমুজ্জামান সেলিম রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন সাহসী ও সক্রিয় কণ্ঠস্বর। সেলিমুজ্জামান সেলিমের ছাত্র রাজনীতি দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক, সিনেট সদস্য, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের ১ম যুগ্ম সম্পাদক, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন।

বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু করে প্রায় ২৫ বছর গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেলিমুজ্জামান।

সময়ের পরিক্রমায় তিনি হয়ে ওঠেন সংগঠনের একজন দক্ষ সংগঠক। তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করা, রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তোলা এবং দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর কারণে তাঁর প্রতি কর্মীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দিন দিন আরও গভীর হয়েছে।

তবে তার রাজনৈতিক পথ মসৃণ ছিল না। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের রোষানলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।বিগত দিনে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনায় বিগত স্বৈরাচার এরশাদের ও স্বৈরাচার শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারের আমলে, দ্রব্য মূল্যের বৃদ্ধি, বিভিন্ন দাবি আদায়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানে, জনসাধারণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দাবি ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ অবৈধ সরকার পতন আন্দোলন কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ বহু কাজ করেছেন তিনি।

বিএনপি‍‍`র দলের প্রচার প্রচারণার দায়িত্বপূর্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে পুলিশে নিয়ন্ত্রিত ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। বিগত আওয়ামী দু:শাসনের দেড় দশকে তাকে নানাভাবে উৎপীড়ন করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন পরিক্ষীত অনুসারী হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা শুধু দলের ভেতরেই নয়, সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও অকল্পনীয়।

গোপালগঞ্জ-১ আসনের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ নতুন আশার সঞ্চার করেছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

মুকসুদপুর পৌরসভার বাসিন্দা দ্বীন ইসলাম বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সবসময় মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন এবং দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে কাজ করার চেষ্টা করেন।

বরাশুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ইকরামুজ্জামান মোল্যা ওরফে ইয়ার মোল্লা বলেন, “কাশিয়ানী-মুকসুদপুরবাসীর প্রাণের দাবি হচ্ছে গোপালগঞ্জ - ১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিমকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা। তিনি সততা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে রাজনীতি করেন এবং দলমত নির্বিশেষে তিনি একজন জনবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত।”

তিনি আরও বলেন, “এলাকার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও শিল্প খাতে তাঁর অবদান সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত। মন্ত্রী হলে তিনি জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

এদিকে শিক্ষাবিদদেরও একই প্রত্যাশা। কাশিয়ানী এম এ খালেক কলেজের অধ্যক্ষ কে এম মাহমুদ জানান, “ গোপালগঞ্জ জেলায় বর্তমানে কোনো মন্ত্রী নেই। অথচ এই জেলা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনেই বিএনপি জয়লাভ করেছে। তাই এ অঞ্চল থেকে একজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।”

তিনি আরও বলেন, “ সেলিমুজ্জামান সেলিম শিক্ষিত, দক্ষ ও উন্নয়নমুখী নেতৃত্বের অধিকারী। তাঁকে মন্ত্রী করা হলে গোপালগঞ্জসহ ফরিদপুর বিভাগের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, পরিচ্ছন্ন ও জনসম্পৃক্ত নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করলে সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। সেই বিবেচনায় সেলিমুজ্জামান সেলিমের নাম আলোচনায় থাকাটা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন তারা।

স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার সেলিমুজ্জামান সেলিমকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করবে।

 

কালের সমাজ/ কে.পি

Link copied!