২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা সহায়তা খাতের আওতায় খরিপ-১ মৌসুমে উফশী আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গোদাগাড়ী উপজেলায় ১০ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, রাসায়নিক সার এবং ১০ জন মৌ খামারীর মাঝে মৌবক্স বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১১ মে) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মরিয়ম আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস শাদাৎ রত্ন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান, উপজেলা সমবায় অফিসার জিগার হাশরত, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আব্দুল মানিক, বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ,কৃষক প্রতিনিধি ও উপকারভোগীরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর প্রণোদনার আওতায় দুটি ক্যাটাগরিতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উফশী আউশ ধান প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে ১০,০০০ জন কৃষকের মাঝে।
১ জন কৃষক পাবেন বীজ উফশী আউশ ধান বীজ ৫ কেজি, ডিএপি সার ১০ কেজি , এমওপি (পটাশ) সার ১০ কেজি। এছাড়াও মৌ-বক্স প্রণোদনায় ১০ জন চাষিকে দেওয়া হচ্ছে ১০ টি মৌবক্স। আধুনিক পদ্ধতিতে মধু আহরণের জন্য নির্বাচিত প্রত্যেক খামারী পাবেন মৌ-বক্স ১টি , স্মোকার ১টি , কুইন গেট ৪টি , হাইভ টুলস ১টি ।
সুবিধাভোগী কৃষক আঃ রহীম বলেন, বাজারে সার-বীজের দাম বেশি। সরকার বিনামূল্যে দিচ্ছে বলে এবার আউশ আবাদ করতে পারব। এতে আমাদের খরচ অনেক কমবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে আউশের আবাদ বাড়াতে সরকার এবার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা করতে মৌ চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রণোদনার উপকরণগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করলে আউশের বাম্পার ফলন ও মধু উৎপাদন দুটোই বাড়বে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সঠিক সময়ে বীজ ও সার ব্যবহারের মাধ্যমে আউশ ধানের উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকজন কৃষক ও মৌ খামারীর হাতে বীজ, সার ও মৌবক্স তুলে দেওয়া হয়। আগামী ২ দিনের মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে তালিকাভুক্ত সকল উপকারভোগীর মাঝে এসব উপকরণ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে কৃষি অফিস জানিয়েছে।
কালের সমাজ/কে.পি

