নওগাঁ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড৬ ইন্ডাস্ট্রির সদস্য নবায়ন ফি হঠাৎ করে প্রায় চার গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। দীর্ঘদিনের নির্ধারিত ১ হাজার ২০০ টাকার পরিবর্তে চলতি বছর নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, দ্রুত নির্বাচন আয়োজন এবং সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবিতে বুধবার সকালে চেম্বারের প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন তারা।
আবেদনপত্রে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন, হঠাৎ করে অতিরিক্ত ফি নির্ধারণের কারণে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আর্থিক চাপে পড়বেন। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে হলে সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে যৌক্তিক ফি নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
নওগাঁ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চলতি মাসের ৭ তারিখে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রায় ২০০ সদস্যের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সেখানে উপস্থিত সদস্যরা জরুরি সাধারণ সভা ও দ্রুত নির্বাচন আহ্বানের দাবি জানান। একই সঙ্গে পাশের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট ও বগুড়ার চেম্বার অফ কমার্স এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নবায়ন ফি নির্ধারণের প্রস্তাবও তোলা হয় বলে তিনি জানান।
লিখিত আবেদনে ব্যবসায়ীরা চার দফা দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলো গুলো হলো
১.জরুরি সাধারণ সভা আহ্বান, ২.সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে যৌক্তিক ফি নির্ধারণ,
৩.দ্রুত দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আয়োজন এবং
৪.সাধারণ সদস্যদের ব্যবসায়িক সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
ব্যবসায়ীদের দাবি, চেম্বারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আশরাফুল ছিদ্দিক স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক এক চিঠিতে নওগাঁ চেম্বারের নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ওই চিঠিতে বিধি মোতাবেক দ্রুত দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে নওগাঁ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অনামিকা নজরুল বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সঠিকভাবে নির্বাচন আয়োজনের কাজ চলছে। সদস্য নবায়ন ফি ও নতুন সদস্য ফি গেজেটের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়। ফি বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে কয়েক মাস আগে প্রশাসক হিসেবে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তবে এখনো কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় মন্ত্রণালয় যদি ফি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তা বাস্তবায়নে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান হবে এবং চেম্বারের কার্যক্রমে জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
কালের সমাজ/কে.পি

